একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশ মেলাতে পারি না
সেমিনারে আলোচকবৃন্দ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাবিতে গতকাল অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশিষ্টজন -আমাদের সময়
একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে আমরা মিলাতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, কখনও আমরা একটা ঘটনার সঙ্গে অন্য আরেকটি ঘটনা মিলাতে পারি না। রুশ বিপ্লবের সঙ্গে যেমন ফরাসি বিপ্লবকে মিলাতে পারি না, ঠিক তেমনি একাত্তরের সঙ্গে নব্বইয়ের ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান মিলাতে পারি না। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি : ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার পথে হাঁটছে কি বাংলাদেশ?’ শীর্ষক সেমিনারের তিনি এসব কথা বলেন।
একাত্তরে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতা এসেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি- চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আরেকটা একাত্তর, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও বলা যাবে না। এটা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অবিচার করা। একাত্তরের স্বাধীনতার প্রস্তাবনার পাশে আরেকটা প্রস্তাবনা দিলে একাত্তর ম্লান হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হতে পারে, কিন্তু সাংবিধানিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে আমাদের সংবিধান বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। আজকে বাস্তবতায় এসব উপলব্ধি করা দরকার।
আরও পড়ুন:
ডেমরায় এক কক্ষে কিশোরী ও যুবকের মরদেহ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লড়াইয়ের অগ্রভাগের তরুণদের সম্মান জানিয়ে আবু সাঈদ খান বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি তরুণদের একটা অংশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই বিভ্রান্তির কবল থেকে তরুণদের বেরিয়ে আসতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সবাই মিলে যে বাংলাদেশ, সেটাকে শেখ হাসিনার সরকার ধারণ করতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ড. ইউনূসের সরকারও এটাকে ধারণ করতে পারছে না।
আরও পড়ুন:
আফরোজা পারভীন পেলেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার
মুক্তা বাড়ৈয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন ৎবিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সিত্তুল মুন্না হাসান প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু ভর্তি ৬৪৫