সংশোধিত বাজেটেও ব্যয় সংকোচনে নজর
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের অর্থবছরের চেয়ে বাজেটের আকার কমিয়েছে সরকার। এর আগে ৫৪ বার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু কখনোই বাজেটের আকার আগের বছরের তুলনায় কমেনি। এবার ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। মূলত কৃচ্ছ্রসাধনের জন্যই এটি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাসিনা সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি, বিপুল অর্থপাচার ও অন্যান্য আর্থিক অসঙ্গতির কারণে দেশের অর্থনীতি নাজুক হয়ে পড়ে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতেই এবার বাজেটের আকার কমানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণে গতি নেই, অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ের খাতে লাগাম টানতে না পারায় আর্থিক চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেট সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকছে ব্যয় সংকোচেন নীতি। ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইতে পারবে না। চলমান সংকোচনমূলক নীতির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছরের মতো সংশোধিত বাজেটেও ব্যয় সাশ্রয় নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের সংশোধিত বাজেটের প্রাক্কলন আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।
আরও পড়ুন:
আকতার পারভেজ সর্বোচ্চ ভোটে সিএসই পরিচালক
এ ছাড়া সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন অবশ্যই মূল বাজেটের বরাদ্দের মধ্যেই থাকতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। তবে সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রয়োজনে মূল বাজেটে বরাদ্দের সীমার মধ্য থেকে একই ধরনের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ কমানো বা বাড়ানো যাবে। কিন্তু উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থ অব্যয়িত থাকবে বলে অনুমিত হলে ওই অর্থ কোনোভাবেই পরিচালন বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি খরচে সব ধরনের বৈদেশিক ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। কেনা যাবে না গাড়ি, জাহাজ ও বিমান। তবে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে পরিচালন বাজেটের আওতায় ১০ বছরের পুরনো গাড়ির প্রতিস্থাপন হিসেবে নতুন গাড়ি কেনা যাবে। এমনকি পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচও বন্ধ রাখতে হবে। এদিকে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নে প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখাসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বৃহত্তম হিমশৈল
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে সরকারি ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে সংশোধিত বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। সাধারণত অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিশেষ করে মার্চে সরকার জাতীয় বাজেট সংশোধন করে। তবে এবার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন থাকায় আগেভাগে বাজেট সংশোধন করা হচ্ছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত বাজেটসংক্রান্ত নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হলে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট বাজেট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এ ধরনের নির্দেশনাগুলো চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয়কাঠামোকে শৃঙ্খলিত রাখার পদক্ষেপ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যপূরণের চাপ থাকায় সরকার এখন ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা বজায় রাখছে। সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের এ নির্দেশনাকে তারা দেখছেন রাজস্ব প্রবাহের বাস্তবতা এবং ঋণনির্ভর ব্যয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি হিসেবে।
আরও পড়ুন:
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃচ্ছ্রসাধনের বিকল্প নেই। কারণ অর্থের সংকট রয়েছে। এ জন্য বাজেট সংশোধন করা দরকার।