আলকারাজের তারুণ্যে থেমে গেলেন জোকোভিচ

স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৯
শেয়ার :
আলকারাজের তারুণ্যে থেমে গেলেন জোকোভিচ

তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসলেন কার্লোস আলকারাজ। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় বাছাই এই স্প্যানিয়ার্ডের কাছে সরাসরি সেটে হেরে গেলেন ৩৮ বছর বয়সী টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ।

পুরুষ এককের প্রথম সেমিফাইনালে শুক্রবার রাতে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক জোকোভিচকে ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ গেমে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ। সময় লাগে মাত্র ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট।

এই হারে অন্তত আরও কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে গেল জোকোভিচের ইতিহাস গড়া ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন। ২০২৩ সালের ইউএস ওপেন জয়ের পর আর বড় মঞ্চে ট্রফি ওঠেনি তার হাতে।

ম্যাচের শুরুতে কিছুটা স্নায়ুচাপে থাকলেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের করে নেন আলকারাজ। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে প্রথম দুই সেটে জোকোভিচ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকারে আলকারাজ ছিলেন ধীরস্থির ও কৌশলী।

তৃতীয় সেটে শারীরিকভাবে স্পষ্টভাবে ক্লান্ত দেখা যায় জোকোভিচকে। টানা দুটি ডাবল ফল্ট করে আরও চাপে পড়ে যান তিনি। আলকারাজ তখন ৩-১ গেমে এগিয়ে যান, এবং সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাননি। শেষ সেটে একপেশে জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেন ফাইনাল।

ম্যাচ শেষে কোর্টের পাশে এসে আলকারাজকে অভিনন্দন জানান সপ্তম বাছাই জোকোভিচ, তারপর দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে মাঠ ছাড়েন এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

২০২২ সালের ইউএস ওপেন জয়ী আলকারাজ এবার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন ইতালির ইয়ানিক সিনারের। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সিনার হারিয়েছেন কানাডার ফেলিক্স অগের-আলিয়াসিমকে ৬–১, ৩–৬, ৬–৩, ৬–৪ গেমে।

ফাইনাল নিশ্চিত করে আলকারাজ বলেন, ‘আবারও ফাইনালে উঠতে পারা দারুণ অনুভূতি। এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। আজ হয়তো আমার সেরা খেলা ছিল না, তবে আমি পুরো ম্যাচ জুড়ে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলেছি—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পরেও হাল ছাড়ছেন না জোকোভিচ। ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট—আরও একবার অন্তত গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের চেষ্টা।

জোকোভিচ বলেন, ‘আমি এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেলতে চাই, এবং আগামী বছর পুরো মৌসুম খেলার ইচ্ছাও আছে। তবে সেটা সম্ভব হবে কি না, সময়ই বলে দেবে। গ্র্যান্ড স্লাম তো আর পাঁচটা টুর্নামেন্টের মতো নয়—এগুলোই আমাদের খেলাধুলার মূল স্তম্ভ।’

নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি, ‘সাধ্য অনুযায়ীই খেলব। পাঁচ সেটের ম্যাচে আলকারাজ বা সিনারের মতো তরুণদের হারানো এখন আমার জন্য অনেক কঠিন। তিন সেটে কিছুটা সুবিধা পাই, কিন্তু পাঁচ সেটে সেটা কঠিন হয়ে যায়। তবুও আমি লড়াই চালিয়ে যাব, ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করব, অন্তত আরেকটি ট্রফির জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ব।’