চড়কাণ্ড প্রকাশ্যে আনতেই মোদির সমালোচনায় শ্রীশান্তের স্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৫৪
শেয়ার :
চড়কাণ্ড প্রকাশ্যে আনতেই মোদির সমালোচনায় শ্রীশান্তের স্ত্রী

আইপিএলের ২০৮ সংস্করণে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘চড়কাণ্ড’ ফের আলোচনায়। ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর সেই বিতর্কিত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছেন আইপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান ললিত মোদি। এতে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে, আর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রীশান্তের স্ত্রী ভুবনেশ্বরী।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের ‘বিয়ন্ড২৩’ নামের এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে পুরোনো ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মোদি। শুধু কথা বলেই থেমে থাকেননি, প্রথমবারের মতো সামনে আনেন সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এর জবাবে ইনস্টাগ্রামে ভুবনেশ্বরী লেখেন,‘লজ্জা হওয়া উচিত আপনাদের (মোদি ও ক্লার্ক)। ২০০৮ সালের একটি ঘটনা টেনে এনে আপনারা শুধু সস্তা প্রচার আর ভিউ আদায় করতে চাচ্ছেন। শ্রীশান্ত আর হরভজন সেই ঘটনা অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছে। এখন দুজনেই স্কুলে পড়ুয়া সন্তানের বাবা। অথচ আপনারা সেই পুরোনো ক্ষত আবারও উসকে দিলেন। এটা জঘন্য, হৃদয়হীন ও অমানবিক।’

মোদি অবশ্য এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন তিনি (ভুবনেশ্বরী) এত রাগ করছেন। আমাকে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমি শুধু সত্যটাই বলেছি। শ্রীশান্ত ছিল সেই সময়ের ভুক্তভোগী—এটা আগে কেউ জানতে চায়নি। ক্লার্ক যখন জিজ্ঞেস করলেন, তখন আমি উত্তর দিলাম।’

ঘটনাটি ঘটেছিল মোহালিতে, আইপিএলের প্রথম আসরে। ম্যাচে মুখোমুখি হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ম্যাচ শেষের দৃশ্যে টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, শ্রীশান্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরবর্তীতে জানা যায়, হরভজন সিং তাকে থাপ্পড় মেরেছেন।

লম্বা সময় ধরে এ ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও সেদিনের মুহূর্তটি কেউ দেখেনি—সেই ভিডিও এবারই প্রথম সামনে এলো।

ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা হাত মেলাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে। শ্রীশান্ত কাছে আসতেই হরভজন করমর্দনের বদলে আচমকা চড় কষিয়ে বসেন তাঁর মুখে। এরপর উত্তেজিত হয়ে শ্রীশান্ত হরভজনের দিকে তেড়ে যান, পাল্টা এগিয়ে যান হরভজনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ইরফান পাঠান ও মাহেলা জয়াবর্ধনে।

ঘটনার জেরে হরভজনকে ১১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। পরে দুজনেই বিষয়টি মিটিয়ে নেন। এমনকি সম্প্রতি আর. অশ্বিনের ইউটিউব শোতেও হরভজন বলেন, “আমি এখনো ওই দিনের জন্য অনুশোচনায় ভুগি।”

কিন্তু সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও ফাঁস হওয়ায় আবারও যন্ত্রণার স্মৃতি সামনে চলে এসেছে। আর তাই এই সময়ে ভিডিওটি প্রকাশ করাকে অনেকেই দেখছেন ‘অনুচিত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে।