জাবি ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ মাদকাসক্ত ও বহিষ্কৃতরা

জাবি প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২৫, ০০:০০
শেয়ার :
জাবি ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ মাদকাসক্ত ও বহিষ্কৃতরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা । এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও ৩৭০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে স্থান পান মাদকাসক্ত ও অপরাধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয় জাবি শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৭টি হল ও একটি অনুষদ কমিটি। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গতকাল শনিবার রাতে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। 

জানা গেছে, হল কমিটিতে বিশ^বিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সভাপতির পদ পাওয়া কাজী মৌসুমী আফরোজ, ফজিলতুন্নেছা হলের সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা সুরভী, ২১নং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সীমান্ত, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিমন এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইমরান নাজিজ, আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের সিনিয়র সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব মাওলা, সালাম বরকত হলের সাধারণ সম্পাদক আলিফ, ১০নং হলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন মোল্লা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময় শাখা ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। ২১নং হল কমিটির ইমরান ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। সালাম বরকত হলের সভাপতি সাইদুল ইসলাম পূর্বে ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ছিলেন। এ ছাড়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক ভ্রƒণ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ও ঢাবির সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হয়েও আল বেরুণী হল ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন সৈয়দ শাহ শাফায়েত। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রভাবশালী এক বিএনপিপন্থি শিক্ষকের সন্তান বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মওলানা ভাসানী হলের ফেরদৌস রহমান ছাত্রত্ব না থাকলেও তথ্য গোপন করে পেয়েছেন হল সভাপতির পদ এবং হলের শিক্ষার্থী না হয়েও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন রাজিব হোসাইন অপি। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সভাপতির পদ পাওয়া হামিদুল্লাহ সালমানের পিতা চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ছিলেন বলে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, বর্ধিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া মো. শাকুর বাপ্পী, শাবাব সবুজ অর্ণব, আল আমিন, সাদিকুর রহমান সৌরভ, নুরুজ্জামান আশিক, আজিজুর রহমান নাইম, তানভীরুল আরেফিন কবির পাপন জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। বিভিন্ন সময়ে অংশ নিয়েছেন দলীয় কর্মসূচিতে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে মাদকসহ আটক হয়ে বিশ^বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিপন হোসাইন ও সতীর্থ বিশ্বাস বাঁধন সদস্যপদ পেয়েছেন ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে। নিয়মিত ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের গুণগান গাওয়া সুমন খান পেয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়কের পদ। র‌্যাগিংয়ের দায়ে ২ বছরের জন্য বহিষ্কৃত শুভজিৎ বিশ^াস এবং মাদক সেবন করতে গিয়ে সম্প্রতি হাতেনাতে ধরা পড়া সাদিক ইয়াসির ও মো. জেরিনও পেয়েছেন সদস্যপদ। এ ছাড়া বর্ধিত কমিটিতে পদ পাওয়া অধিকাংশ নেতাকর্মীকে কখনও দলীয় মিটিং-মিছিলে অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দেখা যায়নি। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ঘোষিত প্রাথমিক আহ্বায়ক কমিটিতে ১৩ ছাত্রলীগকর্মী পদায়ন হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে দেখা দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ। শুক্রবার রাত ১০টায় অবমূল্যায়িত নেতাকর্মীরা করেছেন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। তারা বলেন, আর্থিক লেনদেন ও লবিংয়ের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে এ কমিটি। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া জাবি শাখা ছাত্রদলের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি করে এমন অনেককে রাখা হয়েছে, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, আমরা তথ্য যাচাই-বাছাই করতেছি। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ (৩৯ ব্যাচ) থেকে আহ্বায়ক এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ (৪০ ব্যাচ) থেকে সদস্যসচিব নিয়ে ঘোষিত ১৭৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ৭৫ জন এবং সদস্য হিসেবে ২৯৬ জন জায়গা পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল রাত পৌনে নয়টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ নিয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসানের আলোচনার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তার কাছে ছয় দফা দাবি জানান।