কৃষিঋণ বিতরণ বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা
২০২৪-২৫ অর্থবছর
বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। পুরো অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ঋণ বিতরণ সামান্য বেড়েছে।
সেই সঙ্গে এক বছরে কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কৃষকরা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন বেশি। কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পেছনে চারটি কারণকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এগুলো হলো- গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সৃষ্ট অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুদের হার বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খাদ্য উৎপাদন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে মোট শ্রমজীবীর ৪৫ শতাংশ সরারসি কৃষির সঙ্গে জড়িত। শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৃষির পরোক্ষ অবদান রয়েছে। তাই এ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতিবছর নীতিমালা জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষিঋণ বিতরণে একটা লক্ষ্য্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৬ দশমিক ১৫ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগের বেশি ঋণ বিতরণ করেছিল ব্যাংকগুলো। তবে গত অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৭২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
আকতার পারভেজ সর্বোচ্চ ভোটে সিএসই পরিচালক
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত অর্থবছর কৃষিঋণ আদায়ও বেড়েছে। পুরো অর্থবছরে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ৩৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে
আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে আদায় বেড়েছে ২ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। সবমিলে গত জুন শেষে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের বকেয়া স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের জুনে ছিল ৫৮ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে যেসব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের জরিমানা হিসেবে অনর্জিত অংশ কেটে নিবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ড (বিবিএডিসিএফ)’ নামে তহবিলে জমা করা হবে এবং জমাকৃত অর্থ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
বৃহত্তম হিমশৈল
এদিকে চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দিয়ে আগামী ১২ আগস্ট নতুন নীতিমালা ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
অভিযোগ আছে, প্রতিবছর কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও ব্যাংকগুলোর ছলচাতুরির কারণে তার উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। ব্যাংকগুলো অন্য খাতে ঋণ দিয়ে তা কৃষিঋণ বলে চালিয়ে দেয়। আবার বিভিন্ন ফরমালিটিসের কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া কৃষকের পক্ষে কঠিন। উপরন্তু নেটওয়ার্ক তৈরি করতে না পারায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের কৃষিঋণের অধিকাংশই এনজিও নির্ভরতায় বিতরণ করে।