তিন বছরে রাজস্বের লক্ষ্য ১৮ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা
আগামী ২০২৫-২৬, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ তিন অর্থবছরে মোট ১৮ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে চায় সরকার। এ অর্থের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ বিভাগের করা মধ্যমেয়াদি রাজস্ব পূর্বাভাসে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের নিম্ন্ন কর-জিডিপি হার ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধি সহায়ক ব্যয় বৃদ্ধির সক্ষমতা অর্জনে রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগসমূহ শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করসহ সমগ্র কর কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ৩টি কৌশলে বিভক্ত করে (কর ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর-জাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনে সক্ষমতা বৃদ্ধি)। এসব উদ্যোগের পেছনে মূল ভাবনা কর প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজতর ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে করদাতাকে উন্নতমানের সেবা ও অধিকতর রাজস্ব আহরণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী তিন অর্থবছরে মোট ১৮ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে চায় সরকার।
আরও জানা গেছে, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, যা টাকায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি। এ লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি।
আরও পড়ুন:
একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এ রাজস্বের বড় অংশ আসবে বিভিন্ন কর খাত থেকে। রাজস্ব আদায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এবং কর প্রদান সহজ-নির্ঝঞ্জাট করলে অনেক কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতা কর প্রদানে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে। ভবিষ্যতে রাজস্বের বড় অংশ আসবে প্রত্যক্ষ কর থেকে। কর-জাল বিস্তৃতকরণ ও রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাপক কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেই হার যৌক্তিকীকরণ ও বাজেট প্রণয়নে আরও স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ নেবে সরকার।
সরকারের রাজস্ব আহরণকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, কর অব্যাহতি প্রদান যৌক্তিকীকরণ ও রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং ইন্টিগ্রেশন রাজস্ব আহরণ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদে রাজস্ব পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজস্ব আদায় বেগবান করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে মধ্যমেয়াদি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব। মধ্যমেয়াদি প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তার মধ্যে এনবিআরে লক্ষ্যমাত্রা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ২৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি তথা কর-জিডিপির অনুপাত কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেওয়ার বিকল্প নেই। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠন ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ অধ্যাদেশ জারি করেছে। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজস্ব নীতিসংক্রান্ত কার্যাবলি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা থেকে পৃথক করা হবে। নতুন করে ১০টি কর অঞ্চল ও ৩টি বিশেষায়িত ইউনিট যুক্ত করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন আমাদের সময়কে বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কর-জাল বিস্তার করতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।
আরও পড়ুন:
পাল্টে যেতে পারে আন্দোলনের ধরন