ভয়ে লিখব নাকি নির্ভয়ে লিখব
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে ‘ভয়ে লিখব নাকি নির্ভয়ে লিখব’ নিবন্ধের এই শিরোনাম মনে এলো। গত ৫৩ বছরে গণমাধ্যম স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে খুব কম সময়ের জন্য, তাও ধারাবাহিকভাবে নয়। বিভিন্ন সরকারের সময় সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্পাদক, সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। শারীরিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন আমলে অনেক সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একজন রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্ন করার জন্য বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) একজন সিনিয়র সাংবাদিকের চাকরি চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সম্প্রতি একজন উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা নিয়ে তিনটি টিভি চ্যানেলের তিনজন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। যদিও এ ক্ষেত্রে উপদেষ্টা বা সরকারের কোনো হাত ছিল না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের এখনও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে দেশে গণতন্ত্রহীনতা, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের আর্থিক সক্ষমতার অভাব এবং সাংবাদিকদের পেশার অনিশ্চয়তা কখনও কখনও প্রবল হয়ে উঠেছে। সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। কমিশন স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকাশের পথে প্রধান বাধাগুলোকে বিশ্লেষণ করেছে। কমিশনের মতে, এ বাধাগুলো হলো আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আর্থিক। এ ছাড়া মালিকানা সংকটও রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পথচলার ঐতিহাসিক পরিক্রমা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পর্বটি খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল। স্বাধীনতার পর তা বছর দুয়েকের মতো স্থায়ী হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বটি ছিল নব্বইয়ের দশকের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর। আর এই দুই পর্বের মধ্যবর্তী সময়টির চিত্র ছিল হতাশাব্যঞ্জক। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৫ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দারুণভাবে সংকুচিত হয়। প্রথমে উদারনীতি, পরে নিত্যনতুন কৌশলে গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যম
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সাল থেকে পাঁচ বছর এবং ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এই সময়ে সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সংখ্যাধিক্য আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীন মনে হলেও এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলের খবর, টক শো গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত নজরদারির মধ্যে ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা সরকারবিরোধী ভাবাপন্ন হিসেবে বিবেচিত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতত। গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ ভিন্নমতের টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা। প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়কে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন জেলে আটক রাখা হয়। শফিক রেহমান জামিনে মুক্ত হয়ে লন্ডনে নির্বাসিত হয়েছিলেন। আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করা হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দুই দফায় গ্রেপ্তার করে পাঁচ বছরের বেশি সময় জেলে বন্দি রাখা হয়। টিভি টক শোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিতে এসব মামলা করা হয়েছিল। ব্যারিস্টার মইনুলকে কারারুদ্ধ করা হয়। একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে (যার বিরুদ্ধে ব্যাংক দখলের অভিযোগ রয়েছে) নিয়ে কার্টুন আঁকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মুশতাক আহমদ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবিরের সাহসী ভূমিকার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিভিন্ন সময় তার গাড়ি অনুসরণ করে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। কিছুদিনের জন্য তার পরিবার পর্যন্ত নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পতিত হয়। টিভি টক শোতে নূরুল কবিরের অংশগ্রহণের ওপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী গত ১৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময় মিলিয়ে আট মাস দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হাসিনা সরকার দীর্ঘদিন বিক্ষুব্ধ ছিল। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭৮টি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হয়। মামলা করা হয় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত টক শো এবং নির্দিষ্ট কোনো খবরের বিষয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের সদর দপ্তরে ডেকে পাঠিয়ে সংবাদ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে কৈফিয়ত চাইত এবং ভয়ভীতি দেখাত। এ প্রসঙ্গে নিজের এবং সহকর্মীর একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আমি তখন এনটিভিতে বার্তা প্রধানের দায়িত্বে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় সরকার। ওইদিন রাতের টক শোতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। টক শোর উপস্থাপক ছিলেন প্রধান বার্তা সম্পাদক (বর্তমানে বার্তা প্রধান) জহিরুল আলম। মির্জা ফখরুলের টক শো রেকর্ডেড ছিল। টক শো প্রচার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে জহিরকে ফোন করে আমাকে নিয়ে পরের দিন বেলা ১১টায় ডিজিএফআইয়ের দপ্তরে যেতে বলা হয়। সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক এক কর্নেল কেন মির্জা ফখরুলকে নিয়ে টক শো প্রচার করা হলো, এ বিষয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি কত বছর ধরে সাংবাদিকতায় আছি, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা এবং এখনও আছে কিনা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা ‘প্রয়োজনে’ এনটিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া এবং সর্বশেষ হাতিয়ার হিসেবে টিভির লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেন। বাংলাভিশনে একটি টক শো’র উপস্থাপক ছিলেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। একটি টক শো’র অতিথি ছিলেন শেখ পরিবারের সদস্য ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক। তিনি ‘ভবিষ্যতে জয় সরকারে ও রেহানা দলে ভালো করবেন’ এমন বক্তব্য দিলে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই টক শো’র কারণে কিরণকে বেশ হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এ ছাড়া সাবেক সিইসি মো. নূরুল হুদার ‘বিএনপি নির্বাচনে না আসায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি’ এমন বক্তব্য টক শোতে প্রচারের পর তাকে টিভি টক শোতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস বিভিন্ন টেলিভিশনে অংশগ্রহণসহ তার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়। তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
হাসিনার ১৯৯৬ মেয়াদে গণমাধ্যম
শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সরকারি ট্রাস্টের পত্রিকার ওপর খড়্গহস্ত হন। তিনি এ দেশের সংবাদপত্রের জগতের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলা’ বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেন বাংলাদেশ টাইমস, সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও আনন্দবিচিত্রা। চারটি পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দৈনিক বাংলার সম্পাদক অবিভক্ত বিএফইউজের সাবেক সভাপতি আহমেদ হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য তখনকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে এই মামলা দেওয়া হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে শুনানির পর সর্বোচ্চ আদালতে আহমেদ হুমায়ুন নির্দোষ প্রমাণিত হন। এ মিথ্যা মামলা আহমেদ হুমায়ুনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
অন্যান্য সরকারের আমলে গণমাধ্যম
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক স্বাধীনতা কোনো সরকারের আমলেই ছিল না। স্বাধীনতার পর দু-এক বছর সংবাদপত্র স্বাধীনতা ভোগ করলেও তার পর শুরু হয় বিভিন্ন পন্থায় নিয়ন্ত্রণ। স্বাধীন দেশে প্রথম গুলিবর্ষণের ঘটনায় দৈনিক বাংলা টেলিগ্রাম বের করে। আর এ কারণে চাকরি হারান সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান এবং সম্পাদক তোয়াব খান। অবশ্য পরে তাদের দুজনকেই অন্যত্র চাকরি দেওয়া হয়। গণকণ্ঠ সম্পাদক আল মাহমুদকে জেলে পাঠানো হয়। লেখালেখির কারণে হলিডে সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খানও কিছুদিন জেলে ছিলেন। বাকশাল গঠনের পর চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদকে এবং সাপ্তাহিক বিচিন্তা বন্ধ করে সম্পাদক মিনার মাহমুদকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাতে সরকারের তথ্য দপ্তর (পিআইডি) থেকে কখনও সম্পাদককে আবার কখনও বার্তা সম্পাদককে টেলিফোন করে নিজস্ব রিপোর্টারের প্রতিবেদনের পরিবর্তে সরকারের দেওয়া প্রেসনোট ছাপার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হতো। তার কবিতা কেন দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়, এক সংবাদ সম্মেলনে এরশাদকে এই প্রশ্ন করেন বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন। এই প্রশ্ন করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এবিএম মূসা। তার সাহসী ভূমিকায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে চাকরিচ্যুত করা না হলেও তাকে চট্টগ্রাম অফিসে বদলি করা হয়। খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, নির্বাহী সম্পাদক বোরহান আহমদ, সহকারী সম্পাদক এটিএম শামসুদ্দীনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এখন যা ঘটছে
ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ অনেক বিষয়ে জনমনে নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। গণমাধ্যমও ভয়ভীতি কাটিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেÑ এমন আকাক্সক্ষা গণমাধ্যমকর্মীদের। কিন্তু বেশকিছু ঘটনা এই আকাক্সক্ষায় চিড় ধরিয়েছে। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং টিভি ও সংবাদপত্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। এদের কারও কারও বিরুদ্ধে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। যারা প্রকৃত দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবেÑ এ বিষয়ে ভিন্ন কিছুর সুযোগ নেই। কিন্তু অসংখ্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা দুই শতাধিক। কোনো কোনো সাংবাদিককে একাধিক হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। ব্যাংক হিসাবের বিবরণ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঢালাওভাবে নাম দেওয়া হয়েছে। একটি দৈনিক পত্রিকা অফিসের সামনে জিয়াফত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করার জন্য তিনটি টিভি চ্যানেলের তিনজন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। অনেকের মতে, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার ভঙ্গি আক্রমণাত্মক ছিল। তার পরও টিভি কর্তৃপক্ষ কোনো আইনের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তিন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করেন। একটি সংগঠনের ‘মার্চ টু...’ ঘোষণার পর কর্তৃপক্ষ ভয়ের কারণে এটি করেছেন। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ একটি অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মবের ভয়ে সেল্ফ সেন্সরশিপে গণমাধ্যম।’ অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ভয়ের সংস্কৃতির অবসান ঘটবেÑ গণমাধ্যমকর্মীদের এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা কি অধরাই থেকে যাবে? ¿
লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক