সেই মুলতান, ‘বাংলাদেশ মহাকাব্য’ কি ঘটাতে পারবে পাকিস্তান?

স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:৪৪
শেয়ার :
সেই মুলতান, ‘বাংলাদেশ মহাকাব্য’ কি ঘটাতে পারবে পাকিস্তান?

জয় পেতে পাহাড় ডিঙাতে হবে পাকিস্তানকে। ছবি: পিসিবি

বাংলাদেশের জন্য দুঃসহ স্মৃতি, পাকিস্তানের জন্য এক সুখকর ইতিহাস। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুলতান টেস্টকে এভাবে বলাই যায়। শক্তিশালী পাকিস্তানকে ২৬২ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টেস্টে নবাগত বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে এক পর্যায়ে এক শ রানের আগেই স্বাগতিকদের ৫ উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা। তবে সেই ম্যাচেও জয় পায়নি খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। 

ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ১ উইকেটের জয় পায় পাকিস্তান। ১৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইনজামাম। যেখানে দলের অন্য কোনো সদস্য ফিফটির দেখাও পাননি। প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেও একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সাদা পোশাকের টাইগারদের। প্রথম জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয় আরও ২ বছর। 

২২ বছর পর আবারও মুলতানে তৈরি হয়েছে প্রায় একই প্রেক্ষাপট। এবার চিত্রনাট্যের একপাশে পাকিস্তান থাকলেও আরেক পাশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক সময়ের পরাক্রমশালী ক্যারিবিয়ানরা এখন ক্ষয়িষ্ণু প্রায়। সিরিজের প্রথম টেস্টে হেরে চলতি মুলতান টেস্টে আন্ডারডগ হয়েই নেমেছে তারা। তবে অপেক্ষাকৃত কম ফেবারিট দলই দেখাচ্ছে জয়ের সম্ভাবনা। 

প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান করেও পাকিস্তানকে ১৫৪ রানে অলআউট করে ৯ রানের লিড পায় উইন্ডিজ। আজ দ্বিতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৪ রানে অলআউট হলে স্বাগতিকদের সামনে ২৫৪ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয় ক্যারিবিয়ানরা। জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৬ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য শান মাসুদের দলকে এখনো করতে হবে ১৭৮ রান আর উইন্ডিজের চাই ৬ উইকেট। জয়ের মহাকাব্য ঘটাতে এই ম্যাচেও ইনজামামের মতো একজনকে দরকার স্বাগতিকদের। ১৯৯০ সালের পর পাকিস্তানে আর টেস্ট জেতেনি ক্যারিবিয়ানরা। এবার তাদের আক্ষেপ ঘোচানোর মুহূর্ত। 

স্পিন রাজত্বের মুলতানে দ্বিতীয় ইনিংসে আজ ভালোই ব্যাটিং করে উইন্ডিজ। ওপেনিংয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন মিকাইল লুইস। ২ উইকেট হারিয়ে শতরান পার করা দলটি অবশ্য হোঁচট খায় মিডল অর্ডারে। দেড় শ রান করার আগেই পতন হয় ৬ উইকেটের। তবে সিরিজের অন্যান্য ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও দেখা যায় লেজের বীরত্ব। সাত, আট, নয় ও দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ ইনিস খেলেন টেভিন ইমলাচ (৩৫), কেভিন সিনক্লেয়ার (২৮), গুড়াকেশ মোতি (১৮) ও জোমেল ওয়ারিকান (১৮)। তাতে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দেয় সফরকারীরা। 

জবাব দিতে নেমে ৫ রানের মধ্যেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাসুদ ও তরুণ ব্যাটার মোহাম্মদ হুরাইরা। সেট হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি কামরান গুলাম (১৯) ও বাবর আজম (৩১)। ৭১ রানের মধ্যেই হারিয়ে বসে চার উইকেট। অপরাজিত ব্যাটার হিসেবে দিন শেষ করেছেন সৌদ শাকিল ও কাসিফ আলি। চার নম্বরে নেমে মহাকাব্য লিখেছিলেন ইনজামাম। এবার চারে নামা কামরান আউট আগেই। পাঁচ নম্বরে নামা শাকিলের কাঁধে তাই ভর করতে হবে ইনজামামকে।