জুলাই-আগস্টের ধকল কাটেনি
রাজনৈতিক অস্থিরতার ধকল কাটাতে পারছে না রাজস্ব খাত। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী শিথিল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব দেখা যাচ্ছে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে। যদিও নেতিবাচক সব অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২৪ সাল। আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অর্থনীতি রীতিমতো সংকটে খাবি খাচ্ছিল। চাপ সামলাতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও গত প্রায় পাঁচ মাসে গতি ফেরেনি।
অভ্যুত্থান পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা কাটছে না। চাঁদাবাজিরও খবর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। এনবিআরের সাময়িক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি সাড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। জুলাই-অক্টোবর এ চার মাসের কোনোটিতেই মাসওয়ারি শুল্ক-কর আদায় করা সম্ভব হয়নি।
জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন ও পরবর্তীতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি কারফিউ ছিল বেশ কয়েক দিন। এ সময় কলকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকে। এসবের প্রভাব পড়ে শুল্ক-কর আদায়ে। গত ৮ আগস্ট নতুন সরকার গঠিত হলেও নানা ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ছিল। বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণি দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামে। ফলে অস্থিরতার মধ্যে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় করা যায়নি।
আরও পড়ুন:
একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এনবিআরের হিসাব অনুসারে, গত জুলাই-অক্টোরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১১২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অনুপাতে করদাতার হার অত্যন্ত কম। ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৪০ লাখ মানুষ কর দেন। কর প্রদানের এই নিম্নহার বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এ ছাড়া করদাতাদের এ স্বল্প হার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাকে শ্লথ করছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, কর আহরণের প্রকৃতি এবং বাজেট প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা প্রয়োজন। ঔপনিবেশিক আইনের কোনো সংস্কার তো হয়নি উল্টো নিত্যনতুন যে পয়েন্টগুলো যুক্ত হয়েছে, সেগুলোতেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতা নেই। তিনি বলেন, এনবিআরে তুলনামূলকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবলের অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে আশির দশকে রাজস্ব বোর্ডের গুরুত্ব তেমন ছিল না। আর রাজস্ব অবকাঠামো তখন যে ক্ষুদ্র পরিসরে ছিল, তা স্থির ছিল বহু বছর। তাই দক্ষ লোকবল নিয়ে রাজস্ব বিভাগ পরিচালিত হওয়া আবশ্যক।