হজের নিবন্ধনে গতি নেই
নিবন্ধন মাত্র ১৩,৪২৭ জন
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লোগো
আগামী বছরের জন্য হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সময় শেষ হবে ৩০ নভেম্বর। সেই হিসাবে আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এর মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ১৩ হাজার ৪২৭ জন। সরকারি ও বেসরকারি দুই পক্ষেরই তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণার পরও নিবন্ধনে এমন ভাটা। অথচ আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজব্রত পালনের সুযোগ পাবেন।
হজ এজেন্সির উদ্দেশে গত ১৪ নভেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না। পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। এ সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজে গমনেচ্ছুদের ৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় সরকারি মাধ্যমে সাধারণ হজ প্যাকেজ-১ ও সাধারণ হজ প্যাকেজ-২ এর যে কোনোটি নির্বাচন করা যাবে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধনের পাশাপাশি প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধনও করা যাবে। হজ প্যাকেজ নির্বাচনের পর আর প্যাকেজ পরিবর্তন করা যাবে না।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়। এরপর অক্টোবর পর্যন্ত ১২৪টি হজ এজেন্সিতে একজনও নিবন্ধন করেননি। এসব এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ৫ জুন পবিত্র হজব্রত অনুষ্ঠিত হবে।
হজযাত্রীদের নিবন্ধনে ভাটা কেন? এ প্রশ্নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, নিবন্ধনের জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত যথেষ্ট সময় আমরা পাচ্ছি। আমাদের অভ্যাসগত সমস্যা হচ্ছে শেষ সময়ে এসে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। সময় থাকতে কেউ তাগিদ অনুভব করেন না। পরে আন্দোলন করে আবার দাবি করবেন সময় বাড়ানোর জন্য। এ জন্য আগেই নোটিশ করা হয়েছে যে, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।
আরও পড়ুন:
আকতার পারভেজ সর্বোচ্চ ভোটে সিএসই পরিচালক
নিবন্ধনে হজযাত্রীদের অনাগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে একাধিক হজ এজেন্সির কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিকভাবে একটা পটপরিবর্তন হয়েছে। আবার মানুষের কাছে এখন নগদ টাকাও কম, অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি নেই। উপরন্তু অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকে বলে আসছে হজের ব্যয় কমানোর চেষ্টা করবেন। সেই অপেক্ষায়ও আছেন অনেকে। কিন্তু কাক্সিক্ষত ব্যয় কমেনি।
‘হজযাত্রীরা বিভ্রান্ত’
সুবিধা কমিয়ে হজের ব্যয় কমানোর বিষয়টি হজযাত্রীদের বিভ্রান্ত করেছে বলে মনে করেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সম্প্রতি বাতিল হওয়া কমিটির মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। গত ৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে এ বছর হজের খরচ কমেনি। গত বছরের তুলনায় এবার হজের খরচ বেড়েছে। হজে খরচ মূলত কমানো সম্ভব দুটি জায়গায়Ñ একটি বিমানভাড়া, আরেকটি সৌদি অংশের খরচ। দুটি জায়গার মধ্যে এবার বিমানভাড়া ২৭ হাজার টাকা কমেছে। কিন্তু টাকার বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় মূল্যের তারতম্যের কারণে এবার প্রত্যেক হজযাত্রীর খরচ বেড়েছে ৪০ হাজার টাকা। এভাবে ধরলে গত বছরের তুলনায় এবার হজের খরচ ১৩ হাজার টাকা বেড়েছে। কিন্তু বলা হচ্ছে, এবার হজের খরচ ১ লাখ ৯ হাজার টাকা কমেছে। কীভাবে? এবার ধর্ম মন্ত্রণালয় সেবার মান কমিয়ে হজ প্যাকেজ মূল্য কম দেখানোর চেষ্টা করেছে। এটি হজযাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে। এ ছাড়া এবারের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, খাওয়া খরচ ছাড়াই।
বেসরকারি হজ প্যাকেজ
আরও পড়ুন:
বৃহত্তম হিমশৈল
সাধারণ হজ এজেন্সির মালিকদের ব্যানারে বেসরকারি (একাংশ) হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন হাবের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি ফারুক আহমেদ সরদার। তার ঘোষণায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে এ বছর খাবার খরচ যুক্ত করে সাধারণ হজ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার এবং বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
অন্যদিকে গত ৭ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সি মালিকদের পক্ষ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কোরবানি ছাড়া সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সি মালিকদের পক্ষে সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী। হজযাত্রীদের জন্য খাবারসহ কোরবানি ব্যতিত সাধারণ হজ প্যাকেজ-১ এ মূল্য মোট ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা; সাধারণ হজ প্যাকেজ-২ এ ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা; এবং বিশেষ হজ প্যাকেজ এ ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
সরকারি হজ প্যাকেজ
সাধারণ হজ প্যাকেজ-১ এর মূল্য ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর মূল্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রত্যেককে খাবার বাবদ ন্যূনতম ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল এবং কোরবানি বাবদ ৭৫০ সৌদি রিয়াল আবশ্যিকভাবে সঙ্গে নিতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে মক্কা ও মদিনার বাড়ি বা হোটেলে ২, ৩ ও ৪ সিটের রুম এবং শর্ট প্যাকেজের সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। গত ৩০ অক্টোবর এই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
আরও পড়ুন:
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম