এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি জোবায়েরের ‘অঢেল সম্পদ’
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল টি এম জোবায়েরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। জোবায়ের ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে লন্ডনে ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, সাভারে বহুতল ভবন, গাজীপুরে রিসোর্ট-বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অঢেল সম্পদ থাকার একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের বিরুদ্ধে গত রবিবার দুদকে অভিযোগটি জমা পড়ে। এতে
তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ছাড়াও মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগটি দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
টি এম জোবায়েরকে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রায় ৬ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩১ মার্চের এক আদেশে তাকে মাতৃসংস্থা সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান।
আরও পড়ুন:
একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, টি এম জোবায়ের ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় বিশাল একটি বাড়ি গণপূর্তের মাধ্যমে তার আত্মীয়ের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দখল করেছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ বাড়িটি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এনএসআইয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে গাজীপুরের শ্রীপুরে রিসোর্ট ও সদরে বহুতল ভবন, ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরে নিজের ও বোনের নামে ফ্ল্যাট, সেগুনবাগিচা ও ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, রাজলক্ষ্মী মার্কেটে একাধিক দোকান, পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্লট রয়েছে।
অন্যদিকে, টি এম জোবায়েরের মালিকানায় ঢাকার সাভার ডিওএইচএসে ১০ তলা বাড়ি ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় তার গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি লন্ডন, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার করেছেন উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়। তিনি লন্ডনের বেক্সলি এলাকার হেথ কর্ফট ওয়াসান্ট সড়কের ৭ নম্বর বাড়িটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩৫ কোটি টাকা) মূল্য কিনেছেন। এ বাড়িটি টি এম জোবায়ের, তার স্ত্রী ফাহমিদা মাসুদ, তাদের ছেলে এস ইবনে জোবায়েরের নাম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকঋণ ছাড়া বাড়িটি নগদ মূল্যে কেনা হয়।
টি এম জোবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের নামে বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ এজেন্সি থেকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ডলার আদায় করেছেন। এ ছাড়া তার ছত্রছায়ায় তার ভায়রা কাইয়ুম বিমান বন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি এনএসআইয়ের ডিজি পদমর্যাদার অপব্যহার করে বিভিন্ন বিভাগের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া জোবায়েরের বিরুদ্ধে এনএসআইয়ে থাকাকালে তার চাচাতো ভাই জহির প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে এনএসআইয়ের অফিসার চাকরি দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। একটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তির মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সুযোগ ও আশ্রয় দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিপুল পরিমাণ এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের এ অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল টি এম জোবায়েরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।