আবারও প্রিমিয়ার লিগ মাতাবে বঙ্গবন্ধুর ক্লাব ঢাকা ওয়ান্ডারার্স

এম.এম. মাসুক
২৫ এপ্রিল ২০২৪, ২১:২২
শেয়ার :
আবারও প্রিমিয়ার লিগ মাতাবে বঙ্গবন্ধুর ক্লাব ঢাকা ওয়ান্ডারার্স

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের লোগো

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন সফল ফুটবলার ছিলেন। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নিয়মিত খেলতেন তিনি। তার নেতৃত্বে এক সময়ের দেশের অন্যতম সেরা ফুটবল ক্লাব ওয়ান্ডারার্স শিরোপাও জিতেছিল। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। নিজের ফুটবলস্মৃতি নিয়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তেও অনেক কথা লিখেছেন তিনি। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর সেই ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সাত বার ঢাকা লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ডও গড়ে দলটি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে পঞ্চাশ-ষাট দশকে দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব ছিল ওয়ান্ডারার্স। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দেশের প্রাচীন ক্লাবটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঝিমিয়ে পড়ে। সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ নানা কারণে আড়ালে চলে যায় ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ক্যাসিনো কাণ্ডের পর ক্লাবটির ইমেজ নষ্ট হয়েছে বহু গুণে। অনেক দিন ক্লাবটির মূল ফটকে তালা ঝুলছিল। তবে সেই অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর মুখ দেখছে শুরু করেছে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব।

সম্প্রতি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে রানার্সআপ হয়ে আবারও দেশের শীর্ষ ফুটবল আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। ২০০৫ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়েছিল ক্লাবটির। এরপর প্রায় ২০ বছরের ব্যবধানে বহু সংগ্রাম করে আবার প্রিমিয়ার লিগে উত্তীর্ণ হওয়ার সাফল্য পেয়েছে দলটি। আগামী মৌসুমে পেশাদার ফুটবল লিগ মাতাবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত ক্লাব ঢাকা ওয়ান্ডারার্স।

চার বারের প্রচেষ্টায় প্রিমিয়ার লিগে উঠার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে ওয়ান্ডারার্স। ক্যাসিনো কাণ্ডের পর সাংগঠনিকভাবে নতুন করে শক্তিশালী হয় ক্লাবটি। বর্তমান কমিটির অধীনে পেশাদার লিগে আবারও নাম লেখানো ক্লাবটির খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন আমাদের সময়কে বললেন, ‘পেশাদার লিগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব নাম লেখানোর পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আমাদের প্রেসিডেন্টের (কাজী শহিদল্লাহ লিটন)। যেভাবে উনি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, সেটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া কোচ ইউসুফ অনেক পরিশ্রম করেছেন। খেলোয়াড়রাও তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে খেলেছেন। আমি মনে করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। আগে আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। এবার আমরা সফল হয়েছি।’

তিনি জানান, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট লিটন চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন। সেখান থেকে দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আজ রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের জার্সিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

দীর্ঘ দিন পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পর কীভাবে নিজেদের সম্মান উজ্জ্বল করা যায়, লিগে টিকে থাকা যায়, আর্থিকভাবে আরও সচ্ছলতা আসে ক্লাবের- এসব ঘিরেই এখন চিন্তা-ভাবনা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব কর্তাদের। কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- অর্থ। প্রিমিয়ার লিগের জন্য আমরা একটি মাঝারি মানের দল গঠন করার চেষ্টা করব। উদীয়মান খেলোয়াড় দলে নেওয়ার চেষ্টা করব। এজন্য লম্বা সময়ের জন্য অনুশীলন ক্যাম্প গড়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের। সেখান থেকে ফুটবলার তোলে আনার চেষ্টা করব। এমন দল গঠন করার ক্ষেত্রে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন স্পন্সর খুঁজছি, ডোনার খুঁজছি। কারণ একটি ক্লাব চালাতে গেলে কোটি টাকার প্রয়োজন। আমাদের প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন, অর্থ সংকট কাটানোর চেষ্টা করবেন।’

কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা শুধু ফুটবল চালাই তা নয়, ক্রিকেট, কাবাডিসহ অন্যান্য ইভেন্টও রয়েছে। তবে ফুটবলের জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন। বিশেষ করে পেশাদার লিগে টিকে থাকার জন্য একটি ভালো দলই গড়তে হবে। সেক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থ দরকার।’

প্রিমিয়ার লিগে শত কোটি টাকা খরচ করছে বসুন্ধরা কিংস। এ ছাড়া শেখ রাসেল, শেখ জামালের আর্থিকভাবে শক্তিশালী। আর্থিক সহায়তা পেলে অতীতের জৌলুস ফিরে পেতে পারে ওয়ান্ডারার্স- এমন আশা কামাল হোসেনের।

ক্যাসিনো কাণ্ডে নষ্ট হওয়া ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। ওই কলঙ্কের পর মতিঝিলপাড়ার ক্লাবটি অনেকটা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের মতোই এক ভুতুরে পরিবেশে পরিণত হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বন্ধ ক্লাবটি খুলে দেওয়া হলেও বঙ্গবন্ধর ছবি, ট্রফিসহ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে। দরজা-জানালা, ওয়াশরুম ঠিক করে কোনো রকমে বর্তমানে খেলোয়াড়রা থাকেন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে।

যাই হোক, প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত করে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্তমান অবস্থানে এসেছে ক্লাবটি। দলকে প্রিমিয়ার লিগে উঠানোর ক্ষেত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন ওয়ান্ডারার্সের কোচ জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার আবু ইউসুফ। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু যে দলটিতে খেলেছেন, সেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরে খুবই খুশি।