১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার অবনমনে পেলে-নেইমারের ক্লাব সান্তোস
সান্তোসে খেলেছেন নেইমার ও পেলে। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোস নিজেদের ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার অবনমন পড়ল। এই ক্লাবে এসময় খেলেছেন ফুটবল সম্রাট পেলে এবং নেইমার জুনিয়র। পেলে তো তার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময়ই এখানে খেলেছেন। এবার ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরিআ থেকে নেমে সিরি-বি তে চলে গেছে।
আজ লিগের শেষ দিনে সান্তোস ফোর্তালেজার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে অবনমনের শিকার হয়। এতদিন সাও পাওলো এবং ফ্ল্যামেঙ্গোর পাশাপাশি এই ক্লাবটিই ব্রাজিলিয়ান লিগের ইতিহাসে কখনো অবনমিত হয়নি। অবশেষে নিচের স্তরে নেমে গেল।
সান্তোসকে চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ধুঁকতে দেখা গেছে। যেখানে ৩৮টি লিগ ম্যাচে মাত্র ১১টিতে জয় পায়। তবে ১৭ বার হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। সেইসঙ্গে ছিল ১০ ড্র। শেষ দিনে অবনমন এড়াতে অন্তত ড্র করলেই হতো তাদের। ৩৭তম ম্যাচডে শেষে সান্তোসের পয়েন্ট ছিল ৪৩ আর বাহিয়ার ছিল ৪১।
তবে সান্তোস ফোর্তালেজার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে। অন্যদিকে বাহিয়া ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে অ্যাতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে। ৩৮তম দিনে এসে তাই সান্তোসের পয়েন্ট আটকে রইলো ৪৩-এ। আর বাহিয়া ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চলে যায় রেলিগেশন জোনের বাইরে।
অবনমনের তালিকা না থাকা সান্তোসের নাম কাটা পড়ার পর এখন বাকি রইল শুধু ফ্লামেঙ্গো ও সাও পাওলো। টানা ৫ ম্যাচ জয়শূন্য থাকায় ২০ দলের লিগে ১৭তম স্থানে নেমে গিয়ে অবনমন মেনে নিতে হয় সান্তোসকে।
পালমেইরাস একই দিন ক্রুজেইরোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সিরি আ-তে টানা দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছে।
এই সান্তোসকেই বৈশ্বিক খ্যাতি এনে দিয়েছিলেন পেলে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বৈশ্বিক সফরে নাম কামানোর পাশাপাশি সে সময় ১০বার রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ৬বার ব্রাজিলিয়ান লিগ জিতেছে ক্লাবটি। ১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে জিতেছে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নস লিগ নামে খ্যাত কোপা লিবার্তোদোরেস। এই দুই বছরে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার সেরা ক্লাবগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও জিতেছে সান্তোস। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে সান্তোস সব মিলিয়ে ৮বারের চ্যাম্পিয়ন। তিনবার জিতেছে কোপা লিবার্তোদোরেস।