অভিবাসীদের জন্য কঠোর হচ্ছে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দেশের আশ্রয়নীতিতে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংস্কার ঘোষণা করেছেন। এই নতুন নীতি অনুযায়ী, শরণার্থীদের মর্যাদা হবে সাময়িক। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে চার গুণ অর্থাৎ ২০ বছর করা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ক্ষমতাসীন লেবার সরকার পপুলিস্ট রিফর্ম ইউকে পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা রুখতে ও অভিবাসন নিয়ে জনগণের উদ্বেগে সাড়া দিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নীতি ইউরোপের অন্যতম কঠোর দেশ ডেনমার্কের নীতির দ্বারা অনুপ্রাণিত, যেখানে শরণার্থীর মর্যাদা সাময়িক এবং শর্তসাপেক্ষ।
নতুন নিয়মে, শরণার্থীদের অবস্থান প্রতি আড়াই বছর অন্তর পর্যালোচনা করা হবে এবং যদি নিজ দেশ নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, তবে তাদের সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়াও, যেসব আবেদনকারী কাজ করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাজ করতে অস্বীকার করবে বা আইন ভাঙবে, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা (যেমন- আবাসন ও সাপ্তাহিক ভাতা) বাতিল করা হবে। এই সহায়তার অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তাদের, যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
আরও পড়ুন:
রোগীর পেটে জীবন্ত মাছি!
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৩ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭% বেশি। এই পরিসংখ্যানই সরকারের কঠোর হওয়ার প্রধান কারণ।
তবে অধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ১০০টিরও বেশি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা এই পদক্ষেপের নিন্দা করে বলেছে, এই কঠোর নীতি অভিবাসীদের বলির পাঁঠা করবে এবং সমাজে বর্ণবাদ ও সহিংসতাকে উসকে দেবে।
আরও পড়ুন:
২৫ জিম্মিকে মুক্তি দিল হামাস