লালমনিরহাটে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৮
শেয়ার :
লালমনিরহাটে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তীবর্তী জেলা লালমনিরহাটে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। ভোরে কুয়াশার চাদর, সন্ধ্যায় ঠান্ডা বাতাস আর রাতে শিশির—সব মিলিয়ে শীতের আমেজ স্পষ্ট। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই প্রস্তুতি হিসেবে লেপ–তোষক তৈরির ব্যস্ততায় চলছে কারিগরদের সময়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লেপ–তোষকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। দোকানিরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন। কেউ রেডিমেড কিনছেন, কেউ আবার অর্ডার দিচ্ছেন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী। অন্যদিকে কারিগররা সুই–সুতোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তা নদীঘেঁষা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় লালমনিরহাটে শীতের প্রকোপ বেশি। তাই এবার শীত শুরুর আগেই লেপ–তোষক বানানোর ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেপ–তোষকের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকে স্থায়ী কাপড়ের দোকানগুলোতে কম্বল কিনতে ভিড় করছেন।

এদিকে তুলা, কাপড়, ফোমসহ সব উপকরণের দাম বাড়ায় লেপ–তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড় ৫০–৬০ টাকা, তোষকের কাপড় ৫০–৫৫ টাকা ও জাজিমের কাপড় ১৬০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কার্পাস তুলা প্রতি কেজি ১৮০–২০০ টাকা, পোলি তুলা ১২০–১৩০ টাকা, উল ৫৫–৬০ টাকা এবং জুট ৪০–৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, তোষক ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, জাজিম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং বালিশ ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

শিয়ালখোওয়া বাজারের কারিগর বেলাল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে লেপ–তোষক বানানোর কাজ করি। দুইজন মিলে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯টি অর্ডার শেষ করতে পারি।’

ক্রেতা সামাদ মিয়া বলেন, ‘এবার বেশি শীত হবে শুনে আগেই লেপ বানাচ্ছি। আমরা গরিব মানুষ, কম্বলের দাম আমাদের নাগালের বাইরে। তাই তুলনামূলক কম খরচে লেপ করছি।’

আরেক ক্রেতা মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘দিনের বেলায় শীত তেমন না থাকলেও রাতে শীত বাড়ছে। কাঁথায় আর ঠান্ডা সহ্য করা যায় না। তাই পরিবারের জন্য দুইটি লেপ বানালাম। খরচ পড়েছে ৫ হাজার ৩০০ টাকা।’

সালমা বেগম নামের আরেকজন বলেন, ‘সব কিছুর দামই এখন বেশি। তুলা, কাপড়, মজুরি—সব বাড়তি। তারপরও লেপ বানাতে হবে, সামনে শীত বাড়বে।’

দোকানদার জালাল উদ্দীন বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপের চাহিদা বাড়ছে। যদিও আগের মতো বিক্রি নেই, তবে আশা করছি আগামী দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে।’

আদীতমারী বাজারের মা তুলা স্টোরের মালিক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ–তোষকের অর্ডারও বাড়ছে।’

আমাদের সময়/এফএম