ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য /

নিউইয়র্কে মেয়র পদে জয়ের পথে মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৮
শেয়ার :
নিউইয়র্কে মেয়র পদে জয়ের পথে মামদানি

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হতে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। এই জয় শুধুমাত্র শহরের প্রগতিশীলদের মধ্যে উৎসাহ জাগাচ্ছে না, পুরো দেশে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে উদ্দীপ্ত করছে। একই সঙ্গে এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দ এবং কিছু মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষায় ডেমোক্র্যাটরা ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচনে জয়লাভ করবে বলেও পূর্বাভাস মিলছে।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যদি মামদানি স্বাধীন প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেন, তবে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল তহবিল কেটে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা আগামী বছরের নির্বাচনের আগে কংগ্রেসনাল জেলা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবে ভোট দিচ্ছেন, যা ডেমোক্র্যাট পার্টির পক্ষে সুবিধাজনক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জোহরান মামদানি নানা দিক থেকে ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী একজন নেতা। ১৮৯২ সালের পর তিনি হবেন নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে তরুণ মেয়র। পাশাপাশি তিনিই হবেন শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই পদে আসীন হচ্ছেন।

এই কারণেই সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করা মামদানির জন্য এক বড় অর্জন। তবে তার গুরুত্ব এখানেই শেষ নয়- তিনি এমন এক নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদের প্রতীক, যাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী শাখা প্রত্যাশা করে আসছিল।

তরুণ ও ক্যারিশম্যাটিক মামদানি সহজেই তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার পটভূমি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যকেও প্রতিফলিত করে।

তিনি সবসময় রাজনৈতিক লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত থেকেছেন এবং খোলাখুলিভাবে বামপন্থী নীতিগুলোর পক্ষে কথা বলেছেন- যেমন বিনামূল্যে শিশু যত্ন, গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং বাজার ব্যবস্থায় সরকারের সক্রিয় ভূমিকা।

মামদানি বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছেন সেই অর্থনৈতিক বিষয়গুলোয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং যেগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ধীরে ধীরে মনোযোগ হারাচ্ছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি দলের বামপন্থী সাংস্কৃতিক অবস্থান থেকেও সরে আসেননি।

তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, জোহরান মামদানির মতো প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য নন। রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যেই তাকে “স্বঘোষিত সমাজতন্ত্রী” হিসেবে তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অতি-বামপন্থী মুখ হিসেবে প্রচার করছে। তবুও মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটিতে তিনি বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছেন।

সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে মামদানি এমন এক শক্তিশালী ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই জয় পেয়েছেন, যাকে বামপন্থীরা বহুদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করে আসছিল।