আউট সোর্সিংয়ের কর্মীদের বেতন বন্ধ

মানবেতর জীবনযাপন : দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আবু আলী
১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৩
শেয়ার :
আউট সোর্সিংয়ের কর্মীদের বেতন বন্ধ

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানসহ (নিটোর) দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। নিটোরের ৩৪১ জন কর্মচারীর মধ্যে অনেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন বঞ্চিত। হাবিব আহসান (ছদ্ম নাম) নামে এদের একজন বলেন, ‘দুই মাস ধরে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারিনি। নিজে পর্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১ জন এবং উল্লাপাড়া ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ১১ জন কর্মচারী গত দেড় বছর ধরে বেতন পাননি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতনও বছরের পর বছর বকেয়া। ময়মনসিংহে ৬৯ জন, চাঁদপুরে ৩৪ জন, কুমিল্লায় ৩৫ জন কর্মচারী বঞ্চিত।

বকেয়া বেতনের কারণে অনেক কর্মচারী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, কেউ সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারছেন না, কেউ ধারদেনায় জর্জরিত। এ নিয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, অবিলম্বে বেতন না দিলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

আবেদনে জানানো হয়েছে, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসে ৬৯ জন অফিস সহায়ক ও একজন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ পেয়েছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় চাঁদপুরে ৩৪ জন ও কুমিল্লায় ৩৫ জন রয়েছেন। তারা নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করলেও কুমিল্লায় ৮৪ মাস, চাঁদপুরে ৮০ মাস ও ময়মনসিংহে ৭১ মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। অথচ এ সময়ের মধ্যে সরকারি ফাইল, নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের অফিসের দৈনন্দিন কাজ তাদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, এই কর্মচারীরা বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু টাকা-পয়সা কিছুই পাচ্ছেন না। অনেকে এখন আর সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন না, কারও কারও ঘরে তিনবেলা খাবার জোটে না। প্রায় সবাই সুদে টাকা নিয়ে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছেন।পাওনাদাররা এটাকে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, মানবিক বিপর্যয় বলেই দেখছে।

জেলা প্রশাসকরা ইতিমধ্যে ভূমি সংস্কার বোর্ডে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কিন্তু ভূমি সংস্কার বোর্ড গত ২৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, উপজেলা ভূমি অফিসগুলোর জন্য নিরাপত্তা ও পাহারা সেবার বরাদ্দ থাকলেও অফিস সহায়কদের বেতন প্রদানের জন্য কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদিত হয়নি। অর্থাৎ এই কোডের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় কর্মচারীর বেতন প্রদানের দায়িত্ব কে নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়টি তারা জেনেছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। এখন ভূমি সংস্কার বোর্ড ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ বিভাগে একটা চিঠি দেবে। এরপর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তার আগে অর্থ বিভাগের কিছু করার নেই। তবে তাদের বকেয়া দ্রুত ছাড় করা প্রয়োজন বলেও অর্থ বিভাগ মনে করে বলে জানিয়েছে।

ভূমি সংস্কার বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন বকেয়া হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের কোনো ঠিকাদার নেই। তা ছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগও বন্ধ রয়েছে। তাই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন অর্থ বিভাগ উদ্যোগ নেওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়তো হয়ে যাবে।