শৈলজারঞ্জন কেন্দ্রে নেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড
মোহনগঞ্জে দেশের কৃতী সন্তান, উপমহাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত আচার্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নেই কোনো কার্যক্রম। মোহনগঞ্জে বাহাম এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কিন্তু উদ্বোধনের পর শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গত এক বছরেও কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি আহ্বান করা হয়নি কার্যনির্বাহী কমিটির একটি সভাও।
অবহেলা, অযত্ন আর পরিচর্যার অভাবে প্রায় পরিত্যক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি। বর্তমানে শুধু ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দর্শনার্থী প্রবেশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও কেন্দ্র দেখভাল করতে চারজন স্টাফ দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, এ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতি বছর ব্যয় হয় ১১ লাখ টাকা। অথচ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কেন্দ্র থেকে আয় হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫০ টাকা। ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৭ একরে নির্মিত শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৩ সালের ১১ মার্চ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এখানে শৈলজারঞ্জন মজুমদারের ম্যুরাল, তিনতলা (গেস্ট রুম ৩টি, ডাইনিং ১টি, স্টাফ রুম) বিশিষ্ট একাডেমি ভবন, ২য় তলায় (অডিটরিয়াম, কন্ট্রোল রুম, পরিচালক কক্ষ, লাইব্রেরি, জাদুঘর, কনফারেন্স রুম), ৩১০ সিটের মাল্টিপারপাস হল রুম, ওপেন এমপি থিয়েটার, সানবাঁধানো পুকুর, লাইটিং, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত মেলার স্থান রয়েছে। হাওরাঞ্চলের সংগীতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা শান্তি নিকেতনের আদলে নির্মিত। তবে এ কেন্দ্র পরিচালনায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে। তারাও খোঁজখবর নিচ্ছেন না।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, এ কেন্দ্রে দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি রুমের ছাদে ইন্টিরিয়র ভেঙে পড়ে রয়েছে মেঝেতে।অফিস সহকারী অনিক রায় জানান, ঠিকাদার কাজ করে যাওয়ার পর এক বছর যেতে না যেতেই লাইব্রেরি রুমের ইন্টেরিয়র ভেঙে পড়েছে। তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও অডিটরিয়ামের রুমের অনেক যন্ত্রাংশ নেই।
গ্রামের ষার্টোধ্ব রঞ্জু মিয়া জানান, এত টাকাপয়সা খরচ করে নান্দনিক স্থাপনা হলো কিন্তু এখানে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। এটা খুবই পরিতাপের বিষয়।
কার্যনির্বাহী পরিচালনা কমিটির সদস্য সঞ্জয় সরকার জানান, ওই কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু একটি সভাও আহ্বান করা হয়নি। ৫ আগস্টের পর সব কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কো-অর্ডিনেটর আমেনা খাতুনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।