সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
মো. রাসেল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি মো. খোরশেদ আলমের ওপর হামলাকারী প্রধান আসামি মো. রাসেল মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এসময় তার নিকট থেকে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রাসেল আন্ত:জেলা চোরাকারবারী ও মাদকচক্রের সক্রিয় সদস্য এবং নিজ এলাকায় তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাসেল বাহিনীর প্রধান ও অবৈধ অস্ত্রধারী। এ নিয়ে সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আল আমিন সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত রাসেলের কাছ থেকে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলাসহ আরও কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক খোরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র ‘রাসেল বাহিনী’র নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। এর জেরে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক খোরশেদ আলমকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত ১৫ আগস্ট রাতে ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া বাজার এলাকায় সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় খোরশেদ আলম জ্ঞান হারালে সন্ত্রাসীরা তকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে সাংবাদিক খোরশেদ আলম গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পরদিন আহত সাংবাদিক মো. খোরশেদ আলমের ছোট ভাই মো. হুমায়ুন খান বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী একাধিক মামলার আসামি মো. রাসেল মিয়াসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।