স্ত্রীসহ হাছান মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ এবং তার স্ত্রী নূরান ফাতেমার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দিয়েছেন। দুদকের সহকারি পরিচালক আল-আমিন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, হাছান মাহমুদ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে এক কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন। এছাড়া, তার নিজের, যৌথ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে ৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।
অন্যদিকে, হাছান মাহমুদের স্ত্রী নূরান ফাতেমার বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এনে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ১৯০ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। পাশাপাশি, তার নিজের, যৌথ ও প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সর্বমোট ৬৮৩ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।
আরও পড়ুন:
চীনা অ্যাপের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব মানুষ
আবেদনে আরও বলা হয়, হাছান মাহমুদ তার রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক সহায়তা ব্যবহার করে স্ত্রী নূরান ফাতেমার নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন। এ সম্পদ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল দুদক হাছান মাহমুদ ও নূরান ফাতেমার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মামলা করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে, যা আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
আরও পড়ুন:
ভারত সফরে গেলেন প্রধান বিচারপতি