‘এমন দেশ চাই না, যে দেশে আলেমদের জেলে ঢুকানো হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০১
শেয়ার :
‘এমন দেশ চাই না, যে দেশে আলেমদের জেলে ঢুকানো হয়’

মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ আর চাই না, যে বাংলাদেশে আলেম-ওলামাদের সামনে থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ আর চাই না, যে বাংলাদেশে দাড়ি ধরে ধরে আলেম-ওলামাদের জেলে ঢুকানো হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ আর চাই না, যে বাংলাদেশে কোরআন হাদিস থেকে বয়ান করলে সে মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে দুর্নীতি, রাহাজানি, হানাহানি, গুম এবং হত্যা থাকবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষ তার ধর্মকে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন।’

গতকাল শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ৭৭তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াবের মাহফিলের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মাহফিলে হাজার হাজার মুসুল্লির সমাগম হতে দেখা যায়।

ধামতী দরবার শরীফের পীর মাওলানা বাহাউদ্দীন আহমাদের সভাপতিত্বে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ রাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ কখনোই আমাদের ঠিক করতে পারবে না, যদি না আমরা নিজেরা নিজ থেকে ঠিক না হই। আমি ইসলাম নিয়ে বেশি কিছু জানিনা, এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারা বেশি জানেন। তবে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে বলব, আপনারা ঘুষ থেকে দূরে থাকুন, কাউকে ঘুষ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। তদবীর কোনো ভাল জিনিস না। আপনার যদি মনে হয় আপনার পরিচিত একজন ক্ষমতাধর রয়েছেন, তার থেকে আপনি বিশেষ কোনো সুবিধা নিবেন, এটাও এক ধরনের অপরাধ। এই ঘুষ ও সুদ এগুলো থেকে আপনারা দূরে থাকুন।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আপনাদের যারা প্রতিনিধিত্ব করছে, তারা আপনাদের কর্মচারী। এই কর্মচারীদের কাছে যদি আপনারা বিশেষ একটি দিনে (ভোটের দিন) দুই হাজার এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে যান, তাহলে এই আমানতের খেয়ানত আপনারা করবেন। আমরা পাঁচ বছর, দশ বছর নেতাকে গালাগাল করতে পারব কিন্তু আপনার হাতে যে একদিনের ক্ষমতা ছিল ওই একদিনের ক্ষমতা যদি আপনি অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে ওই পাঁচ বছরের অপশাসনের দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। নেতাকে দোষ দেওয়ার আগে নিজের কাছে আগে দায়বদ্ধ হবেন। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা কর্মচারীর কাছে কখনই বিক্রি হবেন না। অত্যাচারী শাসক, সুদ ও ঘুষের কাছে কখনোই মাথা নত করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ছোট ছোট মানুষ। আমাদের বয়স ২৫ বছর ২৭ বছর, এই বয়সের ছেলেরা এখন পর্যন্ত হয়তো পরিবারের হাল ধরেনি, এখনো পর্যন্ত বাসা থেকে ৫০০ টাকা ১০০০ টাকা নিয়ে চলে, এই বয়সে আমাদেরকে দেশ সংস্কার করতে হচ্ছে, আমাদের ভুল হচ্ছে, আমরা ভুল করছি, আমরা দেখছি, আমরা শিখছি, আমাদের ভুল হলে আপনারা দেখবেন আমরা সেটা থেকে শিখব, এবং আপনাদের দেখানো পথে বাংলাদেশটাকে এগিয়ে নিব।’

মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাসার, ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সি, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম শহীদসহ অন্যান্যরা।