রেলের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, জানালেন হাসনাত

অনলাইন ডেস্ক
২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ০৮:৪৪
শেয়ার :
রেলের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, জানালেন হাসনাত

ছবি: হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে নেওয়া

রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া দুইটার দিকে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য জানান। 

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার। শ্রমিক নেতাদের সাথে নিয়ে আমরা রেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমস্যার সমাধান করতে রেল উপদেষ্টার সাথে দেখা করেছি। এ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স রাত ২টা ৩০ মিনিটে।’

পরে রাত আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আগামীকালের (বুধবার) মধ্যে সমাধান করবেন উপদেষ্টা মহোদয়। আমরা জনদুর্ভোগ চাই না। দুঃখ প্রকাশ করছি। এখন থেকে ধর্মঘট বাদ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলাম। মিডিয়ার মাধ্যমে কর্মী ভাইদের বলতে চাই এটা। উপদেষ্টা বলেছেন, আগের মতো আমরা যা পেয়ে আসছি তা পাব।’

এর আগে স্টাফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার রাতে উপদেষ্টার বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা শিমুল বিশ্বাস, রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান এবং সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

উল্লেখ্য, রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে গত সোমবার মধ্যরাতের পর থেকেই রাজধানীর কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক-সুবিধা দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফরা। ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পুরোনো রেলস্টেশনে সংবাদ সম্মেলন করে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি মানার শর্ত দেয় রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। অন্যথায় ২৮ জানুয়ারি থেকে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)। তারা সাধারণত দীর্ঘ সময় ট্রেনে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের (মূল বেতন) হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন তারা। এ ছাড়া অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। তবে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর এই সুবিধা সীমিত করে অস চালু করা হয়।