সংস্কার কমিশনের কর্মকাণ্ডে নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে না : ড. আলী রীয়াজ
সংস্কার কমিশনগুলোর কর্মকাণ্ডে নির্বাচনের সময় পিছিয়ে যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রীয়াজ। রবিবার রাতে বেসরকারি এটিএন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের কমিশনের অংশ নয়। এজন্য আলাদা কমিশন রয়েছে, সেটা তারা দেখবে। সংবিধানে যতটুকু সংশ্লিষ্ট, সেটুকু নিয়ে আমরা কথা বলব।
এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরও বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের প্রশ্ন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা হচ্ছে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সেই আলোচনা আরো দৃঢ় হবে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আরও বলেন, দেশ তো রাজনীতিবিদরাই চালাবেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসেননি, একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছেন। ১৬ বছর ধরে এ দেশে একটি ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ছিল। শেষদিকে এসে গত জুলাইয়ে যা হয়েছে, গণহত্যা, নৃশংসতা, শব্দগুলো সেই ভয়াবহতাকে ধারণ করতে পারে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার দেশের মানুষের ওপর এই আচরণ করেছে, কারণ দেশের ব্যবস্থাটা সে রকম ছিল। ফলে দেশে গণতন্ত্র দরকার, তার জন্য নির্বাচন দরকার। তবে নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। আমি যেটা মনে করি, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। নির্বাচনের জায়গায় যাওয়ার পথ খুঁজতে হবে। মানুষের মাঝে একটি আকাঙ্খা আছে, মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়।
আরও পড়ুন:
রাজধানীতে কিশোরীসহ ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
সংস্কার কমিশনের কর্মকাণ্ডে নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে কি না, সঞ্চালক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, না, পিছিয়ে যাচ্ছে না। দেখুন, কমিশনগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৯০ দিনের জন্য। সেই সময় কি পার হয়েছে? পার তো হয়নি। ফলে কেউ যদি বলে আপনারা এত সময় নিচ্ছেন কেন— যে নির্বাচনব্যবস্থাকে ভেঙেচুরে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, এর জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া যাবে না? কোনো আস্থা নেই এই নির্বাচনব্যবস্থার ওপর এবং তার কারণও রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে সংবিধান সংশোধন করার নামে নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ফলে এসব সংস্কার করতে আপনাকে এই সময়টুকু তো দিতে হবে।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, রাজনৈতিক দলগুলো চায় দ্রুত নির্বাচন হোক। কিন্তু তার জন্য তো নির্বাচনব্যবস্থাকে একটু ঠিক করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। একটি নির্বাচন কমিশন হয়েছে, তাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। সেটাও তো বেশি সময় হয়নি। তাদের একটু সময় দিন।’ তিনি বলেন, কমিশন সংবিধান পুনর্লিখন করবে না, বরং সংবিধান সংস্কারে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে কিছু সুপারিশ করবে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে এলডিপি?