অটোচালককে হত্যায় ৫ জনের ফাঁসির আদেশ
প্রতীকী ছবি
সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হযরত আলী (৩৫) হত্যার দায়ে ৫ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রায় ১০ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন এ আদেশ দেন।
নিহত হযরত আলী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুর এলাকায় বসবাস করে ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ঘোষগাউয়ের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৩৩), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ তাইকাপন গ্রামের সুমন আহমদ (২৯), একই উপজেলার বরুমপুর গ্রামের শিপু মিয়া (৩০), জাকারিয়া ওরফে মুন্না (২৯) ও মো. রুহুল আমিন (৩০)। তারা সবাই জামিনে ছিলেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ তারা হাজির হননি। ওই দিন থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জয়েদা বেগম আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী থেকে ৫ ছিনতাইকারী যাত্রি পরিচয়ে অটোরিকশা ভাড়া নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ানীবাজারের শিকপুর-বিয়ানীবাজার সড়কে পৌঁছে হযরত আলীকে ছুরিকাঘাত করে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। হযরত আলীকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার পেটসহ শরীরের ১৭ জায়গায় জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক।
এ ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবদুস সাত্তার জানান, মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার অভিযুক্ত ৫ জনকেই আদালতের বিচারক মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
নিহতের ভাই শুক্কুর আলী বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। প্রায় ১০ বছর পর ভাই হত্যার বিচার পেয়েছি। তবে আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানাই।’