শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, খাগড়াছড়িতে ফের ১৪৪ ধারা
আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানা। পুরোনো ছবি
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্সট্রাক্টর (বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স) ও বিভাগীয় প্রধান শিক্ষক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ি ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তা দুপক্ষের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষক সোহেল রানাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীরা। বেশ কয়েক বছর আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক পাহাড়ি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ওই ছাত্রী আদালতে এসে সাক্ষ্য দেয় তিনি কোনো ধর্ষণের শিকার হননি। পাহাড়ি একটি সংগঠনের চাপে মামলা করেছে মর্মে সাক্ষ্য দিলে সোহেল রানা খালাস পান এবং চাকরিতে যোগদান করেন। সোহেল রানা চাকরিতে যোগদানের পর থেকে পাহাড়ি ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ এনে প্রত্যাহার দাবি করে আসছিল। আজ ওই শিক্ষক বিদ্যালয় এলে ত্রিপুরা এক ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ এনে শিক্ষককে হত্যা করা হয়।
জানা গেছে, পাহাড়িদের প্রতিবাদের মুখে আজ বিদ্যালয় থেকে রিলিজ অর্ডার নিতে এসেছিলেন আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হলো না।
এদিকে, শিক্ষককে হত্যার প্রতিবাদে পাহাড়ি ও বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর হয়েছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র। আহত হয়েছেন ১৫-২০ জন। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও পুরো শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ২০২১ সালে খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ সাজাপ্রাপ্ত হয়। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও উক্ত স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। সে প্রতিবাদে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও অভিযোগ করার পরেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা গত ৫ই সেপ্টেম্বর কলেজের শিক্ষার্থীরা বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে চোর সন্দেহে খাগড়াছড়িতে মামুন (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। যার জেরে পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি) ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।