খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর জেলা সদরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জন মারা গেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সহিদুজ্জামান।
তিনি জানান, খাগড়াছড়ি সদর ও পৌরসভা এলাকায় আজ দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ আদেশ জারি থাকবে। এছাড়া, সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এদিকে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের নারানখখাইয়া এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জুনান চাকমা, ধনঞ্জয় চাকমা ও রুবেল চাকমা নামে তিনজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, ‘রাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ১৬ জনকে আনা হয়। তারা বেশিরভাগই সদর উপজেলা থেকে রাতে এসেছেন। এর মধ্যে তিন জন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। বর্তমানে হাসপাতালে আরও ৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।’
রিপল বাপ্পি চাকমা আরও জানান, রাতেই চার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন। আহত বাকি ৯ পাহাড়িকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন জানায়, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে দীঘিনালা লারমা স্কয়ার এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ বাধে। গত বুধবার মামুন নামের এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। আহত মামুন বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সদর উপজেলার বাসিন্দা।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, ‘রাতে গোলাগুলি হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সুপারসহ ঘটনাস্থল দীঘিনালায় যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করব। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আগুনে দীঘিনালা বাসস্টেশন ও লারমা স্কয়ার এলাকায় ১০২টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের ৭৮টি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২৪টি দোকান রয়েছে। ভাঙচুর হয় চারটি দোকান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মিলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।’