যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক
১২ জুলাই ২০২৪, ২৩:৫৫
শেয়ার :
যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম। পুরোনো ছবি

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০২০ সালের এই দিনে চিরবিদায় নেন তিনি। দিনটি ঘিরে এবং তার স্মৃতিকে আরও অম্লান করে রাখতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যুগান্তর ও যমুনা গ্রুপ পরিবার।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৭টায় যুগান্তর কার্যালয়ের হলরুমে পবিত্র কুরআন খতম, সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে কবর জিয়ারত, বেলা ১১টায় যুগান্তর কার্যালয়ে প্রয়াত চেয়ারম্যান মহোদয়ের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ। দুপুর ১২টায় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া সারাদেশে যুগান্তর এবং পত্রিকাটির পাঠক ফোরাম ‘স্বজন সমাবেশ’ জেলা ও উপজেলায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। 

নুরুল ইসলাম স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান। ছেলে শামীম ইসলাম যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিন মেয়ে-সোনিয়া সারিয়াত ইসলাম, মনিকা নাজনীন ইসলাম এবং সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন আধুনিক চিন্তার সাহসী উদ্যোক্তা। স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের আলোচিত ও উজ্জ্বল মুখ তিনি।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যমুনা গ্রুপ। এরপর সব বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছেন শিল্প খাতের এই আপসহীন উদ্যোক্তা। মেধা, সততা, পরিশ্রম ও সাহসিকতার সঙ্গে একে একে ৪২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। 

তার মালিকানাধীন যমুনা ফিউচার পার্ক এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল। এছাড়া যমুনা স্পিনিং মিলস লি. শামীম স্পিনিং মিলস লি. শামীম কম্পোজিট মিলস লি. শামীম রোটর স্পিনিং মিলস লি. যমুনা ইলেকট্রনিক্স, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই তালিকায়। আর যমুনা ফ্যান, অ্যারোমেটিক সাবান এবং পেগাসাস কেডসের মতো জনপ্রিয় বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন তিনি। যমুনা গ্রুপের তালিকায় যমুনা ডিস্টিলারি, যমুনা নিটিং ও ডাইং লি. যমুনা ডেনিমস লি, পেগাসাস লেদার লি. রয়েছে। পাশাপাশি দেশের রাসায়নিক, চামড়া, বেভারেজ, টয়লেট্রিজ, মোটরসাইকেল এবং আবাসন খাতের ব্যবসায় যমুনা গ্রুপের অবদান রয়েছে। এসব শিল্পে সৃষ্টি করেছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্দে বলিষ্ঠ এই কণ্ঠস্বর আজীবন নির্দ্বিধায় ‘কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা’ বলে গেছেন। দেশকে নিয়ে বিশাল স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। আর সাহসী কর্মই শিল্পের এই মহানায়ককে অমর করে রেখেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী। তার সব অর্থ, মেধা ও পরিশ্রম দেশেই বিনিয়োগ করেছেন। তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না। খেলাপি ঋণ এবং বিদেশে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন তিনি।