ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ায় দেশ বিপদে পড়বে: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ জুলাই ২০২৪, ২০:০৯
শেয়ার :
ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ায় দেশ বিপদে পড়বে: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: সংগৃহীত

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ায় দেশ বিপদে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ ফোরাম’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

মান্না বলেন,‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতকে ট্রানজিট দিলে ক্ষতি কি? আরে আপনি তো ট্রানজিট দেননি, দিয়েছেন তো করিডোর। তাদের দেশ থেকে ট্রেন ঢুকবে, সেই ট্রেন আবার তাদের দেশে যাবে। সেখানে কি থাকবে, আমরা জানি না। যদি কোনো দেশ মনে করে এই মালবাহী ট্রেনে অস্ত্র আছে। আবার ভারতের সেভেন সিস্টারে গোলমাল চলছে- তারা যদি মনে করে অস্ত্র আছে আমরা বাধা দেব। এর মানে হচ্ছে, বাংলাদেশকে একদিকে চীন এবং ভারতের মধ্যে যে করিডোর তাদের মধ্যে সমস্যা করে তার জায়গা তৈরি করেছেন। আরেকদিকে আপনি ওইসব এলাকায় যত বিদ্রোহী আছেন তাদেরকে উস্কে দিচ্ছেন। দেশের স্বাধীনতার ওপরে এটা একটা বিপদ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ট্রানজিটের পাশাপাশি যেরকম করে স্যাটেলাইট চুক্তি করা হয়েছে, আমার দেশের সকল গোপন তথ্য ভারতের কাছে চলে যাবে। কেনো তার সঙ্গে চুক্তি করতে হবে? একই প্রশ্ন করি, আমাদের আণবিক শক্তি বিকাশের জন্য ভারতে সঙ্গে কাজ করতে হবে কেনো?’ 

তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বলছেন এটা চুক্তি নয়। কিন্তু যখন সমঝোতা স্মারক করা হয় তার মানে বুঝানো হয় যে, এটা চুক্তিতে গড়াবে। আমরা বলছি, এসব বাতিল করেন। পরিণতি খারাপ হবে এক কথায় সেই পরিণতি বিবেচনা করেই আমরা বলছি, এই সমঝোতা স্মারকের পরে এগুলো চলবে না।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘এক কথায় এই সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে না। এই সরকার জিনিসের দাম কমাতে পারে না, জনগণের ভরন পোষণ দিতে পারে না, ভোট দেয় না, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় না, মানুষের ওপর অত্যাচার করে, নির্যাতন করে, এখন পর্যন্ত জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামার বিচার করা হয়নি। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।’ 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে মান্না বলেন,‘এই সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে করা হয়েছিল, এই সরকারই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দিয়েছে। যাকে সেনাপ্রধান (আজিজ আহমেদ) বানানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দিয়েছে। যিনি পুলিশ বাহিনীর প্রধান(বেনজীর আহমেদ) ছিলেন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কাহিনী এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এটা একটা সরকার হলো? জিনিসের দাম কমাতে পারে না, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। কিন্তু আদালতকে দিয়ে এমন কাজ করে যাতে জনগণের অধিকার খর্ব হয়।’

পেনসন নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের ও চাকরি ক্ষেত্রে কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের মিছিল দেখেন, শিক্ষকদের ধর্মঘট দেখেন রাজপথ আবার সরগরম হচ্ছে। আবারও বিরোধী দল মাঠে নামছে। এই সরকারকে যেতে হবে, এই সরকার থাকার সরকার নয়। এটা কোনো সরকারই নয়।’

সংগঠনের সভাপতি মনজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হকসহ আরও অনেকে।