ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার দেবে জি-৭
যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের শর্ত
জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। এই অনুদান দেওয়া হবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন এটা রাশিয়াকে আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়া যে, ‘আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না’। তবে মস্কো এর পাল্টা হিসেবে ‘সর্বোচ্চ বেদনাদায়ক’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমারা মস্কোর সঙ্গে যেমন আচরণ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ‘যে কেউ’ তাদের পরবর্তী শিকার হতে পারে এবং একইভাবে তাদের সম্পদ জব্দ করা হতে পারে। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতির তিনটি শর্ত দিয়েছেন। শর্তের মধ্যে রয়েছেÑ ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি হতে হবে, দেশের আরও ভেতরে তাদের সেনাদের সরাতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বাসনা ত্যাগ করতে হবে। বিবৃতিটি এমন সময় এলো যখন আজ শনিবার সুইজারল্যান্ডে ৯০ দেশের নেতৃবৃন্দ ইউক্রেনে শান্তি আলোচনা নিয়ে বসছেন। যদিও ওই সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ইটালিতে জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও বাইডেন দশ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তিটিকে কিয়েভ ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে। কিন্তু এখানে ওয়াশিংটন সৈন্য পাঠিয়ে সহায়তা করবে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
আরও পড়ুন:
৬০০ দিন পর কারামুক্ত কাশ্মীরের সাংবাদিক
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাশাপাশি জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রায় ৩২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা আছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এসব সম্পদ জব্দ করা হয়। জি-৭ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সম্পদ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরিয়ে ইউক্রেনের ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বার্ষিক সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হবে। ইতালির পুগলিয়াতে এবারের জি-৭ সম্মেলন হচ্ছে। সেখানেই এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘পুতিন আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারবে না, তিনি আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারবেন না এবং আমরা যুদ্ধে জয় না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে আছি।’
মে মাসে ইউক্রেনকে ৬১ বিলিয়ন ডলারের যে সামরিক সহায়তার কথা বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র তার তুলনায় এই ৫০ বিলিয়ন ডলারকে বড় সহায়তা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো হলোÑ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং
যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব দেশ ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন:
প্রথম নারী বিচারপতির মৃত্যু