জালভোট ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর
২৮ এপ্রিল ২০২৪, ২১:০০
শেয়ার :
জালভোট ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আটক

লক্ষ্মীপুরে ইউপি নির্বাচনে লাইনে ভোটাররা। ছবি: আমাদের সময়

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও জালভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রবিবার দুপুরে তাদেরকে আটক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনস চন্দ্রের নির্দেশে পূর্ব চরমনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ইউপি সদস্যপ্রার্থী নুর নবী ও শাহজাহানকে আটক করে পুলিশ। একই কেন্দ্রের এজেন্ট গিয়াস উদ্দিন ও মো. দিদারকে আটক করা হয়। এছাড়া ওই কেন্দ্রে জালভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় রোকেয়া বেগম নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ইউননিয়নের হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ বছর পর গতকাল রবিবার লক্ষ্মীপুরের ৫টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটাররা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে তীব্র তাপদাহের কারণে ভোট কেন্দ্রে হিট স্ট্রোক করে হৃদয় নামের এক যুবক। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় জেলা সদরের লাহারকান্দি ইউনিয়নের আবিরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে এ ঘটনা ঘটে। হৃদয় একই গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদের ছেলে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক একে আজাদ জানান, হিট স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হৃদয়, তার চিকিৎসা চলছে। তাছাড়া তীব্র গরমের প্রভাবে প্রতিদিন বহু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

এছাড়া তীব্র তাপদাহে এক বৃদ্ধা ভোটার অচেতন হয়ে পড়েন। ভোট চলাকালীন দুপুর ২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৫ নম্বর লাহারকান্দি ইউনিয়নের কৃতৃবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ওই নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অচেতন বৃদ্ধার নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে তিনি কেন্দ্রের ১০ নম্বর নারী বুথের সামনে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

এ বিষয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ভোট দিতে এসে এক বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সীমানা নির্ধারণ ও মামলা জটিলতার কারণে এসব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়নি ১৩ বছরেরও বেশি সময়। এতে করে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি সমস্যা সমাধান করে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন।