পিটার হাসের ‘গা ঢাকা’ নিয়ে যা বললেন রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
১০ এপ্রিল ২০২৪, ১৬:০০
শেয়ার :
পিটার হাসের ‘গা ঢাকা’ নিয়ে যা বললেন রিজভী

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস (বাঁয়ে) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছিলেন’—এমন অভিযোগকে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ বুধবার রাজধানীর শেওড়াপড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণকালে রিজভী এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘কিছু দিন আগে সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে কার্যত গা ঢাকা দিতে হয়েছিল। এ ধরনের একটি মিথ্যা প্রচারণা তিনি চালিয়েছেন অবৈধ সরকারের পক্ষে। তিনি বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর ভূমিকাকে লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে তুলনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে সিরাজউদ্দৌলার নীতির পক্ষে আছে জনগণ। আর জনগণের পক্ষে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে মীর জাফরের পক্ষে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাহেবরা। আর লর্ড ক্লাইভের ভূমিকা পালন করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীরা।’

রিজভী বলেন, ‘আর এক দিন পর ঈদ। অথচ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। সরকারের সীমাহীন লুটপাট আর দুঃশাসনে পড়ে মানুষের অবস্থা খুবই নাজুক। এ রমজানে দেখেছেন নিত্যপণ্যের দাম কীভাবে লাগামহীন ছিল। মানুষ এখন আলু কিনতে পারে না, লেবু কিনতে পারে না, চিনি কিনতে পারে না, সেমাই কিনতে পারে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে না। আর ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা আছে মহা ধুমধামে। কারণ, তাদের হাতে আছে লুটের অবৈধ টাকা।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা গোটা দেশটাকে পরনির্ভরশীল করতে প্রতি দিন কত চিৎকার চেঁচামেচি করছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবরা প্রতিদিন শেখ হাসিনার গুণগান গাইছেন। দেশের মানুষ মরল না বাঁচল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের চাই শুধু ক্ষমতা।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, তারিকুল আলম তেনজিং, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।