ইসরায়েলি দখলদারিত্ব নিয়ে আইসিজে’র শুনানিতে আজ অংশ নেবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৭
শেয়ার :
ইসরায়েলি দখলদারিত্ব নিয়ে আইসিজে’র শুনানিতে আজ অংশ নেবে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ৫৭ বছরের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) টানা ছয় দিন শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এ শুনানিতে অংশ নেবে। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়াও আজ শুনানিতে অংশ নেবে সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও ১১টি দেশ। ধাপে ধাপে মোট ৫২টি দেশ ও তিনটি সংগঠন শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। শুনানি চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 

পর্যায়ক্রমে ৫২টি দেশ এবং আরব লীগ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন যুক্তি উপস্থাপন করবে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফিলিস্তিন, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, বেলিজ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, কমোরোস, কিউবা, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, গাম্বিয়া, গায়ানা, হাঙ্গেরি, চীন, ইরান, ইরাক, আয়ারল্যান্ড, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মরিশাস, নামিবিয়া, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য, স্লোভেনিয়া, সুদান, সুইজারল্যান্ড, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, জাম্বিয়া, স্পেন, ফিজি ও মালদ্বীপ। 

নজিরবিহীন সংখ্যক দেশ এই শুনানিতে অংশগ্রহণ করছে। তবে ইসরায়েল আইসিজের এ শুনানিতে অংশ না নিলেও লিখিত পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে। যদিও মামলাটি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পটভূমিতে করা হয়েছে। তবে এটি পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের উন্মুক্ত দখলদারিত্বের ওপর আলো ফেলবে।

সোমবার শুনানিতে অংশ নিয়ে অবিলম্বে ইসরায়েলি দখলদারত্ব অবসানের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন। দেশটির প্রতিনিধিরা যুক্তি দেখান, ইসরায়েলি দখল অবৈধ। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক আইনের তিনটি মূলনীতি লঙ্ঘন করেছে। ফিলিস্তিনিদের ভূমির বিশাল অংশ দখল করে ইসরায়েল তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং জাতিগত বৈষম্য ও বর্ণবাদী ব্যবস্থা আরোপ করেছে। 

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের সংস্থা বিভাগের প্রধান ওমর আওয়াদাল্লাহ বলেছেন, ‌‘আমরা আদালত থেকে নতুন কিছু শুনতে চাই। আমরা চাই, আদালত বর্ণবাদের বিষয়টি বিবেচনা করুক।’

আওয়াদাল্লাহ আরও বলেছেন, ‘আদালতের পরামর্শমূলক মতামতও শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারিত্ব মোকাবিলা করতে আমাদের বড় হাতিয়ার হবে। ’ জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, দশকের পর দশকের অন্যায় শেষ পর্যন্ত তদন্তের মুখোমুখি হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকা দখল করে। ফিলিস্তিনিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তিনটি এলাকাই ফেরত চায়। এ জন্য তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিতেও দ্বিধা করেন না। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পিস নাউর হিসাবে, ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ১৪৬টি বসতি তৈরি করেছে এবং এতে ৫ লাখের বেশি ইহুদি বাস করে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জনসংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ইসরায়েলও পূর্ব জেরুজালেমকে সংযুক্ত করেছে এবং পুরো শহরটিকে তার রাজধানী বলে মনে করে। এ শহরের ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা পদ্ধতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন হয়। যার ফলে তাদের জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করা বা বিদ্যমান বাড়ি সম্প্রসারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। 

২০০৪ সালে আইসিজে বলেছিলেন, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের কিছু অংশে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এটি অবিলম্বে নির্মাণ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানালেও এ রায় উপেক্ষা করে চলেছে দেশটি।