আবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে ব্লিংকেন

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০
শেয়ার :
আবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে ব্লিংকেন

দক্ষিণ গাজায় বিরামহীন বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল ‘সেফ হোমে’ হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ছবিটি খান ইউনিস থেকে তোলা -এএফপি

গাজায় গত বছর ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে বেশ কয়েকবার মধ্যপ্রাচ্য সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অ্যান্টনি ব্লিংকেন আবার মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন। গাজায় হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি এবং মানবিক ত্রাণ সরবরাহ করতে লড়াইয়ে বিরতি নিয়ে চুক্তির জন্য আলোচনার জন্য তিনি এ সফর করছেন।

বিবিসি জানায়, এ সফরে তার কর্মসূচির শীর্ষে আছে গাজায় হামাসের হাতে থাকা একশর বেশি জিম্মির মুক্তি এবং জরুরি মানবিক ত্রাণ সরবরাহ করতে লড়াইয়ে বিরতি নিয়ে চুক্তি করার জন্য জটিল আলোচনা চালানো।

এই সফরে একই সময়ে ব্লিংকেনকে কারও কারও কাছ থেকে উদ্বেগের মুখেও পড়তে হবে। যারা মনে করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বসাম্প্রতিক হামলা এবং তাদের প্রক্সি সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।

এ সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক এবং সিরিয়ায় কয়েকটি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালাচ্ছে।

এটি কেবল প্রারম্ভ। আগামীতে আরও হামলা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ওদিকে, ইয়েমেনেও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে নিরস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ হামলা চলছে।

হুতি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টিভির খবরে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পশ্চিম ইয়েমেনে হুতিদের এলাকায় রাতে ১৫ দফায় হামলা চালিয়েছে।

চলমান এসব হামলার মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতেই সোমবার তার সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি ইসরায়েল, মিশর ও কাতার সফরে যাবেন।

গাজায় ইসরায়েলের হামলা থামার কোনো লক্ষণ নেই। এ পরিস্থিতিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই ব্লিংকেন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে এ সফরে যাচ্ছেন। এদিকে দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। এর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা প্রচার এবং ফিলিস্তিনিদের অবস্থান তুলে ধরার লেমঘত্রে সেন্সরশিপ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। এমন সম্পাদকীয় নীতির সমালোচনা করেছেন খোদ সংবাদমাধ্যমটির কর্মীরাই।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন দেশে সিএনএন বার্তা কক্ষের কর্মীদের অভিযোগ, ওপর মহলের চাপিয়ে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রতিবেদনের অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে ৭ অক্টোবর হামাসের হত্যাযজ্ঞ ও জবাবে গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে তীব্র পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।