গরুর মাংসের উপকারিতা এবং ঝুঁকি কতটুকু

অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন
১৮ জুলাই ২০২৫, ০০:০০
শেয়ার :
গরুর মাংসের উপকারিতা এবং ঝুঁকি কতটুকু

মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র এই ঈদুল আজহা উদযাপনের বড় অংশই ইতোমধ্যে গরুর মাংসের যাবতীয় রান্না করা খাবার শেষ করে ফেলেছে। তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত, যে কোনো সময় গরুর মাংস খাওয়ার বৈজ্ঞানিক পুষ্টিগুণ কতটুকু এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে।

গরুর মাংস খাওয়ার উপকারিতা : গরুর মাংস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। এতে রয়েছে উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন প্রাণিজ খাদ্যের সমাহার। যেমন

আমিষ : প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে প্রায় ২৬ গ্রাম উচ্চমানের আমিষ থাকে, যা পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। শিশু, কিশোর ও গর্ভবতী নারীর জন্য এই আমিষ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আয়রন : গরুর মাংসে থাকা আয়রন সহজে দেহে শোষিত হয়। এটি রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করে এবং দেহে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে।

ভিটামিন-বি১২ ও জিংক : আরও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-বি১২ ও জিংক, যা স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দ্রুত রোগ সারাতে সাহায্য করে।

শক্তি উৎপাদনে সহায়তা : গরুর মাংসে ক্রিয়াটিন ও কারনোসিন নামের যৌগ থাকে, যা দেহে শক্তি জোগায়।

সেলেনিয়াম : অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন : এই উপাদান শক্তি উৎপাদনে সহায়ক। স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি : তবে এই মাংস খেতে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। যেমন-

হৃদরোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরল : গরুর মাংসের চর্বি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই খেতে হবে কম চর্বিযুক্ত মাংস। অতিরিক্ত লবণ ও তেলে রান্না পরিহার করুন।

ক্যানসারের আশঙ্কা : ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করে যে, লাল মাংস বেশি খেলে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে কয়লায় পুড়িয়ে বা বারবার গরম করে খেলে নাইট্রোসামাইন নামক ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরির জন্য দায়ী থাকে।

ইউরিক এসিড ও গাউট : গরুর মাংসে থাকা পুরিন উপাদান ইউরিক এসিড বাড়ায়। গাউট রোগীর জন্য এটি একেবারেই নিষিদ্ধ বা সীমিত রাখা উচিত।

হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য : প্রচুর মাংস খেলে এবং পর্যাপ্ত সবজি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল বা গ্যাস্ট্রিক হতে পারে।

ডায়াবেটিস ও কিডনির রোগী : আমিষ সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

সংক্রমণ : সঠিকভাবে রান্না না করলে ই. কোলাই, সালমোনেলা বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

কাজেই গরুর মাংস খেলে যেমন উপকার আছে, একইভাবে বেশি খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

হটলাইন : ০১৯৭০৭৮৬৯৭০, ০১৭৮০২৫০৭৮০