দেশের প্রথম প্রযুক্তিনির্ভর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার প্ল্যাটফর্ম 'পেটগো'

অনলাইন ডেস্ক
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২২:৪৬
শেয়ার :
দেশের প্রথম প্রযুক্তিনির্ভর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার প্ল্যাটফর্ম 'পেটগো'

বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পশুপাখি পোষার উপকারও যেমন আছে, তেমনি দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি চাপ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেওয়ারিশ প্রাণীদের নিগ্রহের খবর। এসব ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের সংখ্যাও এখন বেশ বড়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু হলেও তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফেসবুকসহ নানারকম প্ল্যাটফর্মে। আর দেশজুড়ে প্রাণী-প্রেমীদের এক ছাতার নিচে আনার জন্য কাজ করছে তরুণ কয়েকজন উদ্যোক্তা। প্রাণীসেবার এই প্ল্যাটফর্মের নাম দিয়েছেন 'পেটগো'।

সময়ের গতিতে ভালোবাসার পরিধিও বাড়ে। ভালোবাসার বন্ধন ছড়িয়ে যায় মনুষ্য থেকে বন্য প্রাণীতে। শখের প্রাণীকে বশ করে ঘরে তুলে আদর-যত্ন দিয়ে আগলে রাখা হচ্ছে। মনুষ্য পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পশু-প্রাণীদের লালন করা হচ্ছে। পূরণ করা হচ্ছে প্রিয় পশুটির সব চাহিদা। খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে চারদেয়ালের মাঝেই। তবে প্রিয় পোষ্যের সব চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কখনও হিমশিম খেতে হচ্ছে। টেকনোলজির এই জয়জয়কারের দিনে অ্যাপটি পোষ্য পালনকারীদের জীবন আরও সহজ করবে বলে দাবি পেটগো টিমের। 

পেটগো কর্তৃপক্ষ মনে করে, শুধু ভালোবাসার পোষ্যটিই নয়, রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ প্রতিটি প্রাণীর নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করবে এই একটি অ্যাপ। একইসাথে দুই স্তরেই কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম। প্রাণীদের সুরক্ষায় বিশ্বের অনেক মানুষই সচেতন হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় জীববৈচিত্র্য দিবস, পরিবেশ দিবস নামে নানা দিবস পালিত হচ্ছে প্রতি বছর। এ ছাড়া পাখিসহ অন্যান্য প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও রক্ষার জন্য বনভূমি, জলাভূমিগুলো সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন নামে একটি আইন প্রণয়ন করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই সচেতন প্রাণীপ্রেমীরা একযোগে দেশব্যাপী সচেতনতা ছড়িয়ে দিবে।

পেটগো'র মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ও সিইও সাকিব মেহেদী বলেন, ‘পেটগো'কে আপনি পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন একটি সেবামূলক কমিউনিটি অ্যাপ হিসেবে। এটা একটা মাধ্যম যেখানে পোষ্য থেকে বেওয়ারিশ প্রতিটি প্রাণীর স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দিবে এবং প্রাণী সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধানও খুঁজে দিবে।"

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই পেট নিয়ে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ে আমরা প্রায় ৫ শতাধিক পোষ্য মালিক ও এ সংক্রান্ত কয়েকটি ফেসবুকভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কয়েকটি সংগঠনের কর্ণধারদের সাথে কথা বলেছি, তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করছি। আর এই সমস্যাগুলোর জন্য এক ক্লিকে সমাধানের জন্য ্টেকনিক্যাল হাব প্রস্তুত করেছি। পেটগো'র লক্ষ্য এদেশে শক্তিশালী একটি কমিনিউটি তৈরী করা যা পোষ্যের পাশাপাশি সুরক্ষা দিবে রাস্তার প্রতিটি প্রাণীকে। একইসাথে প্রাণীপ্রেমীদের আলাদা করে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে এই প্ল্যাটফর্ম।’

পেটগো খুব দ্রুতই বাজারে আসছে জানিয়ে সাকিব মেহেদী বলেন, আমাদের ডেপেলোমেন্ট পর্যায়ের বৃহৎ অংশের কাজ শেষ। কয়েকটি সার্ভিস পরীক্ষণমূলক পর্যায়ে আছে। এরপরই পেটগো'র সার্ভিস পেতে শুরু করবে সবাই।