স্টকহোমে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন
স্টকহোমে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, স্টকহোম কর্তৃক মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার বিকালে স্টকহোমের একটি স্বনামধন্য হোটেলে একটি জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সুইডেন এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স মিজ আমরিন জাহান এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর চার্জ দ্য এফেয়ার্স মিজ আমরিন জাহান এবং বিশেষ অতিথি বক্তব্য প্রদান করেন।
আরও পড়ুন:
২৪ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৪৯ কোটি ডলার
চার্জ দ্য এফেয়ার্স মিজ আমরিন জাহান তাঁর বক্তব্যের সূচনায় ৩০ লক্ষাধিক শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লক্ষাধিক মা ও বোনের সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এ দেশের আপামর জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্দীপ্ত নতুন বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে তিনি বাংলাদেশ এর সাম্প্রতিক উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সুইডেন-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্যাসিফিক ও লাতিন আমেরিকা- বিভাগের প্রধান রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল উলভেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশ এবং সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকগুলো তুলে ধরেন এবং সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের প্রদর্শনী কর্ণারে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যসামগ্রী প্রদর্শিত হয় ও দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জামদানি ও হাতের কাজের পোশাক, হস্ত ও কুটির শিল্প সামগ্রী এবং বাঁশ, বেত, সিরামিক, মাটি, কাঠ, তামা ও পিতলের তৈরী বাংলাদেশি পণ্য। এরপর নৈশভোজে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে দেশীয় বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এ সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার ওপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ২৬ মার্চ দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।